কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান আলোচনার মধ্যে ভিন্ন মত দিয়েছেন এ খাতের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো প্রকৃত অর্থে বুদ্ধিমত্তার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
লেকুন উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাস্তব জগতকে বোঝার ক্ষেত্রে আধুনিক রোবটগুলো এখনো একটি ইঁদুরের সক্ষমতার কাছাকাছিও নয়। তাঁর মতে, প্রচলিত এআই প্রযুক্তি মূলত বাস্তব বিশ্বের জটিলতা বোঝার জন্য তৈরি হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার পর তিনি অ্যাডভান্সড মেশিন ইন্টেলিজেন্স ল্যাবস নামে নতুন গবেষণা উদ্যোগ শুরু করেন, যেখানে তিনি প্রচলিত চ্যাটভিত্তিক মডেলের বাইরে নতুন ধরনের এআই তৈরির কাজ করছেন।
লেকুন বলেন, চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনাইয়ের মতো বড় ভাষা মডেলগুলো কোড লেখা বা নির্দিষ্ট কাজ করতে পারলেও এগুলোর প্রকৃত বোঝাপড়া নেই। তাঁর ভাষায়, এসব সিস্টেম তথ্য সংরক্ষণ করে পুনরাবৃত্তি করতে পারে, কিন্তু মৌলিক বোধগম্যতা তৈরি করতে পারে না। তিনি বলেন, বাস্তব বিশ্বের ঘটনাগুলো অনিশ্চিত ও জটিল হওয়ায় বর্তমান এআই সিস্টেম সেগুলো যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি কলম ফেলে দেওয়ার ঘটনায় কোন দিকে পড়বে তা আগে থেকে নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়-এই যুক্তি তুলে ধরেন।
লেকুনের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর নতুন গবেষণা প্রকল্প জয়েন্ট এমব্যাডিং প্রেডিক্টিভ আর্কিটেকচার এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এটি বাস্তব জগতের একটি বিমূর্ত ধারণা তৈরি করে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের কাঠামো রোবটিকসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে বাস্তব পরিবেশে কাজ করার জন্য অধিক নমনীয় ও গভীর বোঝাপড়ার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও ঘরের সাধারণ কাজ সম্পাদন এখনো কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লেকুনের মতে, ভবিষ্যতের এআই অতিমানবীয় হলেও তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। তিনি বলেন, মানুষের কাজ হবে লক্ষ্য নির্ধারণ, প্রশ্ন তৈরি এবং সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের অনেকে তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তাঁদের মতে, আগামী দশকে এআই ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে সিস্টেমগুলো শুধু উত্তর নয়, কারণ ও সম্ভাবনাও ব্যাখ্যা করতে পারবে।
গবেষরা জানান, ওয়ার্ল্ড মডেল নামে একটি নতুন ধারণার ওপর কাজ চলছে, যা বাস্তব জগতের মানসিক সিমুলেশন তৈরি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।
এখনো এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও গবেষকদের আশা, এটি এআই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: বিবিসি
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৪/৭/২০২৬