মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন এক অভিযানে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ লক্ষ্যে গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক স্মিডের মালিকানাধীন মহাকাশপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিলেটিভিটি স্পেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। ২০২৮ সালের মধ্যে ‘অ্যাওলাস’ নামের একটি নতুন অরবিটার মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, ধূলিঝড়, মেঘ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহই হবে এ মিশনের প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে মানববাহী ও মানবহীন অভিযানের জন্য নিরাপদ অবতরণ প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ মিশনে নাসার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা পেলোড মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে রিলেটিভিটি স্পেসের ওপর। মহাকাশযান, রকেট এবং মহাকাশযাত্রার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সহায়তাও দেবে প্রতিষ্ঠানটি। স্পেসএক্সের সঙ্গে নাসার যে ধরনের অংশীদারিত্ব রয়েছে, এটিও অনেকটা একই ধরনের সহযোগিতা।
রিলেটিভিটি স্পেসের প্রধান নির্বাহী এরিক স্মিড প্রযুক্তি জগতের সুপরিচিত নাম। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি গুগলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে গুগল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি রিলেটিভিটি স্পেসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং পরে জানান, ভবিষ্যতে মহাকাশের কক্ষপথে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে এসেছেন।
নাসা বলছে, ‘অ্যাওলাস’ মিশন মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল নিয়ে পরিচালিত আগের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এর আগে ‘মার্স রিকনেসান্স অরবিটার’, ‘মার্স ওডিসি’ এবং ‘ম্যাভেন’ মিশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও নতুন মিশনটি আরো বিস্তৃত ও সমন্বিত তথ্য সংগ্রহ করবে। সম্প্রতি দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ‘ম্যাভেন’ মিশনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন অরবিটারটি চারটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বহন করবে। এর মধ্যে ডপলার উইন্ড অ্যান্ড টেম্পারেচার সাউন্ডার মঙ্গলের বাতাসের প্রবাহ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন পরিমাপ করবে। থার্মাল লিম্ব সাউন্ডার বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের তাপমাত্রা, ধূলিকণা এবং বরফমেঘের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
এ ছাড়া সারফেস রেডিওমেট্রিক সেন্সর প্যাকেজ মঙ্গলের পৃষ্ঠে শক্তির ভারসাম্য, ধূলিকণা ও মেঘের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করবে। আর ওয়াইড-ফিল্ড কনটেক্সট ক্যামেরা প্রতিদিন মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত চিত্র ধারণ করবে।
নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব যন্ত্র প্রথমবারের মতো মঙ্গল গ্রহের বাতাস, তাপমাত্রা, ধূলিকণা ও মেঘের একটি সমন্বিত, দৈনিক ও বৈশ্বিক চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরবে। যন্ত্রগুলোর নকশা ও নির্মাণ করবে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার এমেস রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা।
মঙ্গলের ধূলিঝড়, ঋতুভিত্তিক আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলীয় আচরণ সম্পর্কে আরো নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে মহাকাশযানের প্রবেশ, অবতরণ ও অবতরণ-পরবর্তী কার্যক্রম আরো নিরাপদ ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে নাসা। একই সঙ্গে অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাও এ তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
তবে এ মিশনে কোন ধরনের রকেট ও মহাকাশযান ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি রিলেটিভিটি স্পেস। পাশাপাশি এত বড় আন্তঃগ্রহ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কতটা দেখাতে পারে, সেটিও এখনো পরীক্ষিত নয়।
তবুও নাসা মনে করছে, ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের জন্য ‘অ্যাওলাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। লাল গ্রহের পরিবেশ সম্পর্কে আরো গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মানব অভিযানের পথও এ মিশনের মাধ্যমে আরো সুগম হবে। সূত্র: এনগ্যাজেট
সানা/ডিসি/আপ্র/২০/৬/২০২৬