ছায়াপথের কেন্দ্রে এবার ধরা পড়েছে এক বিস্ময়কর মহাজাগতিক কাঠামোর অস্তিত্ব, যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘মহাজাগতিক জীবাশ্ম’। সাধারণ তারাপুঞ্জে যেখানে একই সময়ে জন্ম নেওয়া তারা থাকে, সেখানে এই অঞ্চলে অন্তত চারটি ভিন্ন যুগে তারার জন্মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সহায়তায় মিল্কি ওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে থাকা ‘তেরজান ৫’ নামের রহস্যময় অঞ্চলে এ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। প্রচণ্ড ঘন ধূলিকণা ও ভিড়ের কারণে এতদিন এই অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল। হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পুরোনো তথ্যের সঙ্গে নতুন পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে গবেষকেরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
গবেষকদের মতে, ‘তেরজান ৫’ কোনো সাধারণ গোলাকার তারাপুঞ্জ নয়, বরং এটি ছায়াপথ কেন্দ্রের আদিম কাঠামোর একটি জীবন্ত নিদর্শন। এখানে তারাদের জন্ম হয়েছে চারটি পৃথক পর্যায়ে—প্রথমটি প্রায় ১২৫০ কোটি বছর আগে, দ্বিতীয়টি ৪৭০ কোটি বছর আগে, তৃতীয়টি ৩৮০ কোটি বছর আগে এবং সর্বশেষটি ২৫০ কোটি বছর আগে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব বোলোনিয়ার অধ্যাপক ফ্রান্সেসকো আর ফেরারো বলেন, ‘অজানা কোনো কারণে এই তারাগুচ্ছ ছায়াপথের কেন্দ্র গঠনের মূল প্রক্রিয়া থেকে আলাদা থেকে যায়। পরবর্তীতে এটি ধ্বংস না হয়ে টিকে থাকে, যা একে অত্যন্ত বিরল করে তুলেছে।’ তিনি বলেন, “তেরজান ৫ আসলে ছায়াপথ কেন্দ্রের প্রাচীন এক জীবাশ্মের মতো, যা আমাদের ছায়াপথের আদিম গঠনপ্রক্রিয়ার সাক্ষ্য বহন করছে।’
সহ-গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব বোলোনিয়ার সহযোগী অধ্যাপক বারবারা লানজোনি বলেন, আদি মহাবিশ্বে গ্যাসীয় বড় বড় চাকতি বা ডিস্ক ছিল, যেগুলো পরে ভেঙে ছোট ছোট অংশে পরিণত হয়। এসব অংশে তারার জন্ম হয় এবং ধীরে ধীরে সেগুলো ছায়াপথের কেন্দ্রে একত্রিত হয়ে বর্তমান কাঠামো গঠন করে।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এ।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৯/৬/২০২৬