চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে আলোচিত ঘটনার জেরে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও তিনি চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। বিবাহিত ও সন্তানসন্ততির জনক হওয়া সত্ত্বেও ওই সম্পর্ক, জন্মদিন উদ্যাপন এবং সরকারি বাসভবনে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ গঠন করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শুনানি গ্রহণ, তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে সেটির জবাবও গ্রহণ করা হয়। সব দিক বিবেচনায় তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এদিকে এই সিদ্ধান্তের পর পুনরায় আলোচনায় আসে পরীমনিকে ঘিরে সেই ঘটনা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পরীমনি দাবি করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্ককে ঘিরে জনমনে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, সম্পর্কটি প্রেম ছিল কি না, নাকি অন্য কিছু-তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে।
তিনি আরো বলেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। একই সঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, পুরো ঘটনাকে ঘিরে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা একপাক্ষিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আচরণগত শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
সানা/আপ্র/১৯/৬/২০২৬