চার বছর আগের হতাশা ভুলে এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত এক জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছে গেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠের আধিপত্য ও শৃঙ্খলিত রক্ষণে ফ্রান্সকে প্রায় অসহায় করে রাখে ‘লা রোহা’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে লামিন ইয়ামালকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর পঞ্চম গোল।
গোল হজমের পর আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। প্রথমার্ধ শেষ হয় স্পেনের ১-০ গোলের লিডে।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর দারুণ পাস থেকে পেদ্রো পোরো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি স্পেন।
অন্যদিকে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত বলের দখল বাড়ালেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের একের পর এক প্রচেষ্টা স্পেনের রক্ষণভাগে আটকে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেল স্পেন। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর। অন্যদিকে ফ্রান্সকে খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
স্পেনের এই জয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের ধারাবাহিক আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়ে তারা এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আর মাত্র এক ধাপ দূরে।
সানা/আপ্র/১৫/৭/২০২৬