কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সড়ক নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামের ফুলকা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার জিন্নাত আলী (৩০) ও নয়ন আলী। পুলিশ এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের একটি বেদখল সড়ক উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ওই সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে গেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে সেটি উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার সেখানে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, জয়নাল মিয়া (৫৫) ও তাঁর লোকজন সড়কে মাটি কাটতে গেলে আব্দুর সাত্তারের ছেলে জিন্নাত আলী (৪০) এতে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে জয়নাল মিয়ার ছেলে লিমন (৩০) ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জিন্নাত আলীর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় জিন্নাত আলী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে জয়নাল মিয়া ও তাঁর ছেলে নয়ন আলীও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে পথে জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয়। পরে আহত জয়নাল মিয়া ও নয়ন আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নয়ন আলীর মৃত্যু হয়।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। আটক ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬