প্রয়াত ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ শুধু জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অসাধারণ মানবিক একজন মানুষ। পারিশ্রমিক হাতে পেয়েই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার অভ্যাস। এমনকি রাতের আঁধারে ঘুমন্ত দরিদ্র মানুষের চাদরের নিচে গোপনে টাকা রেখে আসার ঘটনাও ঘটিয়েছেন বহুবার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব স্মৃতিচারণ করেছেন নির্মাতা প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ‘ইডিয়ট’, ‘খোকা ৪২০’ ও ‘খিলাড়ি’সহ একাধিক সিনেমায় জুবিন গার্গের সঙ্গে কাজ করেছেন।
প্রীতম জানান, রেকর্ডিং শেষে অতিথিদের নিয়ে খেতে যাওয়া, নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানো, গুয়াহাটি ঘুরিয়ে দেখানো কিংবা গভীর রাতে নিজেই হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার মতো আন্তরিকতা ছিল জুবিনের স্বভাবের অংশ।
তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল নীরব মানবসেবা। প্রীতমের ভাষ্য, পারিশ্রমিক পাওয়ার পর জুবিন রাতে গাড়ি নিয়ে বের হতেন এবং পথের অসহায় মানুষের মধ্যে টাকার বড় অংশ বিলিয়ে দিতেন। অনেক সময় কেউ ঘুমিয়ে থাকলে তাদের অজান্তেই চাদরের নিচে টাকা রেখে আসতেন।
তিনি আরো জানান, গুয়াহাটির এক বৃদ্ধার ছোট্ট দোকানে নিয়মিত পিঠা খেতে যেতেন জুবিন। একদিন খাবারের মূল্য পরিশোধের সময় তিনি কোনো হিসাব না করেই বৃদ্ধার হাতে কয়েক হাজার টাকা তুলে দেন। শীতের রাতে অসহায় মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল বা চাদর জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ছিল তার জীবনের নিয়মিত অংশ।
প্রীতম বলেন, শিল্পী হিসেবে জুবিন গার্গ যেমন অসাধারণ ছিলেন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন আরো বড়। মানুষের চিকিৎসা, লেখাপড়া কিংবা মেয়ের বিয়ের মতো প্রয়োজনে তিনি নীরবে সহায়তা করতেন। অনেক ক্ষেত্রেই তার পরিবার বা ঘনিষ্ঠজনও এসব বিষয়ে জানতেন না।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান জুবিন গার্গ। মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি ‘লাভ ইউ জুবিনদা’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়ার সম্মতিও নিয়েছেন।
প্রীতম জানান, আজও জুবিনের কথা উঠলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গরিমা। তার বিশ্বাস, শিল্পী হিসেবে নয়, মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণেই জুবিন গার্গ আজও আসামের মানুষের হৃদয়ে অম্লান।
এসি/আপ্র/১৪/০৭/২০২৬