গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মেনু

ফুটবল উন্মাদনায় মৃত্যুর মিছিলে শীর্ষে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১৪ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০২ এএম ২০২৬
ফুটবল উন্মাদনায় মৃত্যুর মিছিলে শীর্ষে বাংলাদেশ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর ফিফা বিশ্বকাপে এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ফিফার সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে ২১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। কিন্তু মাঠের সাফল্যে নয়, বিশ্বকাপকে ঘিরে অন্ধ সমর্থন ও সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনাতেই আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামের ভেতরে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা সমস্যা না থাকলেও মাঠের বাইরের অতিরিক্ত উন্মাদনা, সমর্থকদের সংঘর্ষ, পতাকা টানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা এবং খেলা দেখার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে।

বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনার বড় অংশই প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি কুমিল্লায় লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি মিস নিয়ে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাচালক শরিফুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে ছুরিকাঘাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে একাধিক সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ব্রাজিলের বিদায়ের পর এক তরুণ আত্মহত্যা করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রাণহানির ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০২৪ সালে *জার্নাল অব ইনজুরি অ্যান্ড ভায়োলেন্স রিসার্চ*-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষণা অনুযায়ী, নিহত সবাই পুরুষ এবং তাদের গড় বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

গবেষকদের মতে, নিজের দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা বিদেশি দলগুলোর জয়-পরাজয়কে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় হিসেবে নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও উসকানিমূলক আচরণ এবং চরম আবেগপ্রবণতা এ ধরনের সহিংসতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, খেলাধুলা বিনোদনের মাধ্যম হলেও সেটিকে পরিচয় বা অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে বিশ্বকাপ শেষ হলেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি বন্ধ করা কঠিন হবে।

তবে এ ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও স্পেনেও ভিড়, সহিংসতা, গুলিবর্ষণ, দুর্ঘটনা ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। তবু প্রাণহানির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।

এসি/আপ্র/১৪/০৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম লড়াইয়ে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি
১৪ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম লড়াইয়ে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি

দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ১২৫টি গোল, অসংখ্য রেকর্ড আর প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবু...

বিশ্বকাপ আমাকে মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে বদলে দিয়েছে: হলান্ড
১৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ আমাকে মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে বদলে দিয়েছে: হলান্ড

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও হতাশার চেয়ে অর্জনের দিকেই বেশি নজর আর্লিং হলান্ডের। নরওয়ের এই তারকা স্ট্রা...

মেসিকে থামিয়ে ফাইনালে উঠবে ইংল্যান্ড: জো কোল
১৪ জুলাই ২০২৬

মেসিকে থামিয়ে ফাইনালে উঠবে ইংল্যান্ড: জো কোল

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিষ্ক্রিয় রেখেই ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠবে ব...

রেফারির সিদ্ধান্তে নরওয়ের জয় ‘লুট’ হয়েছে, দাবি হলান্ডের বাবার
১৪ জুলাই ২০২৬

রেফারির সিদ্ধান্তে নরওয়ের জয় ‘লুট’ হয়েছে, দাবি হলান্ডের বাবার

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের হারের পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিস্টের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: রিজভী

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন উপদেষ্টা রিজভী সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 15 ঘন্টা আগে