বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও হতাশার চেয়ে অর্জনের দিকেই বেশি নজর আর্লিং হলান্ডের। নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকারের বিশ্বাস, ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে শুধু একজন ভালো ফুটবলারই নয়, আরো পরিণত মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে।
কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় নরওয়ের। ম্যাচ শেষে অনেকের মতো নীরবে মাঠ ছাড়েননি হলান্ড। সংবাদ সম্মেলনে এসে হাসিমুখেই বিদায় জানান বিশ্বকাপকে এবং বলেন, এই টুর্নামেন্ট তার জীবন ও ক্যারিয়ারে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
আসরের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন হলান্ড। প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করে মোট সাতবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান তিনি। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের শক্ত রক্ষণভাগ তাকে কার্যকর হতে দেয়নি। ইংলিশ ডিফেন্ডারদের কড়া মার্কিংয়ে নিষ্প্রভ ছিলেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। ফলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি নরওয়ে।
তবু বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন বলে মনে করছেন হলান্ড।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে যে অভিজ্ঞতা হলো, তা স্বপ্নের মতো। মনে হচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট আমাকে মানুষ হিসেবেও বদলে দিয়েছে। ফুটবলার হিসেবে আমার পরিচিতিও আরো বড় হয়েছে। এখনই হয়তো সবকিছু পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসরের অংশ হতে পারাটা অসাধারণ অনুভূতি। এত দিন দূর থেকে দেখেছি, এবার নিজেই সেই মঞ্চে খেলেছি।”
নরওয়ের পারফরম্যান্স নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন তিনি।
হলান্ড বলেন, “আমরা যেভাবে খেলেছি, দেশজুড়ে যে ঐক্য, ইতিবাচকতা ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা আমাদের আরো অনুপ্রাণিত করেছে। এই ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা মাঠে এবং মাঠের বাইরেও অনুভব করেছি।”
বিশ্বকাপের বাকি অংশে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি হলান্ড। তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ম্যানচেস্টার সিটিতে আমার কয়েকজন সতীর্থ ইংল্যান্ড দলে খেলছে। আমি ইংল্যান্ডে বড় হয়েছি, জীবনের প্রথম ফুটবল জার্সিও ছিল ইংল্যান্ডের। তাই দেশটির প্রতি আমার আলাদা টান আছে। তবে ফ্রান্স ও স্পেন দলেও আমার ক্লাব সতীর্থ রয়েছে।”
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে যে সাহসী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে, সেটিকে ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন হলান্ড।
তার ভাষায়, “বিশ্বকাপে খেলা ছিল আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নরওয়ে আবার বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছে। এখন এই মান ধরে রাখতে হবে। আমি সত্যিই গর্বিত।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি, ব্রাজিলের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দলকেও হারানো সম্ভব। ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছি ঠিকই, কিন্তু তাদেরও জিততে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। সামনে আরো বিশ্বকাপ ও ইউরো রয়েছে। নিজেদের আরো শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এটাই উপযুক্ত সময়। আমাদের হাতে দারুণ প্রতিভাবান একটি প্রজন্ম রয়েছে।”
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬