এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ-এই তিন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পরও রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির পর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দিলেও প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর রাত সোয়া আটটার দিকে তারা আবারও সেখানে জড়ো হন। এ সময় তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
আন্দোলনকারীদের একটি দল সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে ভেতরে নেওয়া হলেও বাইরে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়।
এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভেতরে যাওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বুধবারের পরীক্ষা হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।”
দিনভর অবরোধ, সায়েন্স ল্যাব থেকে সংসদ ভবন: এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেন। সেখানে বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর বিকেলে তারা মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন। এতে খামারবাড়ি থেকে আসাদগেট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ([উযধশধ ঞরসবং ২৪][৪])
ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে অংশ নেন।
উত্তরায়ও বিক্ষোভ, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা: একই দাবিতে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায়ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেন।
তাদের দাবি, দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে একজন পুরুষ কণ্ঠকে বলতে শোনা যায়, “এরা তো ফার্মের মুরগি, মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই কণ্ঠ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়ে এ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
তিন বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা: এর আগে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যায় পড়া পরীক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, নতুন প্রশ্নপত্রে ওই পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু তিন বিষয়ের পুনঃপরীক্ষা নয়, দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাজধানীতে যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ: শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচির কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, খামারবাড়ি ও আসাদগেট এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৪/৭/২০২৬