বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার পথ এখনও কঠিন। সেটি করতে না পারলে বাছাই পর্বে খেলঅর চ্যালেঞ্জও নিতে হবে। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের স্বপ্নের সীমানা অনেক বড়।
দলের ওপর বিশ্বাসের কমতি নেই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো ফলাফল করবে বলেই মনে করেন এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি মিরাজের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন আছে ৯ নম্বরে।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ তারিখে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হবে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলির নাম। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুযোগ নেই বাংলাদেশের। তবে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে কিছু, যা সহায়ত হবে সামনের পথচলায়। ৩-০ ব্যবধানে জিতলে মিলবে ৬ পয়েন্ট, ২-১ ব্যবধানে জিতলে যোগ হবে ৪ পয়েন্ট। সবশেষ দুটি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সুদিন ফেরানোর আশা দেখিয়েছে মিরাজের দল। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের দিন অধিনায়ক বললেন, এই পথ ধরেই তারা এগিয়ে যেতে চান।
“২০২৭ বিশ্বকাপ অবশ্যই একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার এবং লম্বা সময়ে ব্যাপার।
তখন পর্যন্ত যেতে গেলে কিন্তু প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে হবে এবং সিরিজ ধরে ধরে ভালো খেলতে হবে। গত দুটি সিরিজ আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি, প্রক্রিয়টা ভালো ছিল এবং ক্রিকেটাররাও অনেক আত্মবিশ্বাসী।” “আমার কাছে মনে হয় যে, এই সিরিজটা আছে আর সামনে যে সিরিজগুলো আছে, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই চেষ্টা করছে, ব্যক্তিগতভাবে তারা কীভাবে উন্নতি করতে পারে।
আমরা ওভাবেই অনুশীলন করছি। ম্যাচে যেন আমরা ওভাবে খেলতে পারি, সেভাবেই আমাদের ফিডব্যাক দেওয়া হচ্ছে।” প্রাথমিকভাবে মিরাজের নেতৃত্বের যে মেয়াদ ছিল, তা শেষ হওয়ার কথা এই জুনেই। সেটিই এখন বেড়ে হয়েছে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। অধিনায়ক তাই এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ছবি আঁকার অবকাশও পাচ্ছেন। “লম্বা সময়ের জন্য একজন অধিনায়ক যদি থাকে, একটা দলকে খুব ভালোভাবে বন্ডিং করাতে পারে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আমি বলি না যে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হোক।
কারণ দিন শেষে তার জন্য অনেক কঠিন একটা দলকে বন্ডিং করানো। কাজেই আমার কাছে মনে হয় এটা একটা ইতিবাচক দিক (লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া)।”
“আমি খুব ভালো মতো পরিকল্পনা করতে পারব প্রত্যেকটি সিরিজ। কোন কন্ডিশনে আমরা খেলব এবং ক্রিকেটাররাও মানসিকভাবে মুক্ত থাকবে যে, আসলে আমরা কার নেতৃত্বে খেলব। এটাও একটা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আমার কাছে মনে হয়, এটা একটা ভালো দিক।” নেতৃত্বের সেই ভালো দিকের প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়বে বলে বিশ্বাস তার। সবশেষ দুটি বিশ্বকাপে অনেক আশা নিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে।
আগামী বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেওয়ার আশা অধিনায়কের। “আমি অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বাস রাখি, আমাদের যে দলটা আছে, আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং আমরা ভালো একটা ফল করতে পারব (২০২৭ বিশ্বকাপে)।
আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলো পার করতে হবে। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে ভালো ক্রিকেট খেলি, যার যার জায়গায় পারফর্ম করার চেষ্টা করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় এই কাজটা সহজ হয়ে যাবে।”
“ক্রিকেট খেলাটা কিন্তু ব্যক্তিগত খেলা নয়। প্রত্যেকটি ক্রিকেটার যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করতে হবে। আমরা যদি দলগতভাবে একসঙ্গে হয়ে খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
ডিসি/আপ্র/১৬/০৪/২০২৬