আইসিসির টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার সবশেষ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে এক যুগ। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরের তোলার পর আর কোনো প্রতিযোগিতার ফাইনাল তো দূরের কথা, শেষ চারেও খেলতে পারেনি তারা। আরেকটি বৈশ্বিক আসর থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর শিখরে যেতে দেশের ক্রিকেটে শেকড় থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা।
লঙ্কান কিংবদন্তির মতে, আধুনিক ক্রিকেট থেকে এখনও অনেক দূরে শ্রীলঙ্কা। বদলে যাওয়া ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে বিশ্বে ক্রিকেটে লঙ্কানদের গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা দেখছেন তিনি।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা ভালোই হয় শ্রীলঙ্কার। আয়ারল্যান্ড, ওমান ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করে আসরের সহ-আয়োজকরা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিব্রতকর এক হারের তেতো স্বাদ পায় তারা। সুপার এইটে এসে হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর বুধবার নিউ জিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয় তারা। ঘরের মাঠ কলম্বোতে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিং ধসে গুটিয়ে যায় স্রেফ ১০৭ রানে। তাতে এবারের আসর থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
চেন আঙিনায় পরপর তিন ম্যাচ হার যেন মানতেই পারছেন না লঙ্কান ক্রিকেটের সমর্থকরা। কিউইদের কাছে হারের পর মাঠেই ক্রিকেটারদের দুয়ো দেন তারা। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র শিরোপা জয়ের পর টানা পাঁচ আসরে সেমি-ফাইনালের আগে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা। আর ওয়ানডে বিশ্বকাপে ২০১১ সালের পর আর শেষ চারে খেলতে পারেনি লঙ্কানরা।
লঙ্কানদের এক যুগ আগের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন সাঙ্গাকারা। মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে রান তাড়ায় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন তিনি। জেতেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। সাঙ্গাকারাদের সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য ছিল শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাঠে দাপট ছিল তাদের।
২০০৭ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয় তারা। আর ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলে দলটি। মাঝে ২০১০ আসরে খেলে সেমি-ফাইনালে। কিন্তু এরপর যেন অতীতের কঙ্কাল হয়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট। টানা পাঁচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলতে না পারায় হতাশ সাঙ্গাকারা।
নিউ জিল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান। সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের সব স্তরে কাজ শুরু করতে বলেন তিনি। তার মতে, একই ধারার চললে ভালো ফল আশা করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। “চারদিকে ভীষণ কষ্ট। সমর্থকরা বিধ্বস্ত, হতাশ, ক্ষুব্ধ।
ক্রিকেটাররাও অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এমন একটা ড্রেসিং রুমে আমিও ছিলাম। এটা সহজ নয়।” “তবে এই দায়িত্বের সঙ্গেই এসব আসে। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা যেমন বোঝা, তেমন বিশাল সম্মানেরও। সঠিক পথে ফেরার জন্য সব স্তরেই অনেক কাজ করতে হবে।
বারবার একই কাজ করে আমরা ভিন্ন ফল আশা করতে পারি না, যেখানে আমাদের চারপাশের ক্রিকেট বিশ্ব খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। আমরা এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি, আর এতে আমরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছি।” সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শনিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
ডিসি/আপ্র/২৬/২/২০২৬