আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ ফুটবলের সূচি ঘোষণা করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। সৌদি আরবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি শুরু হবে এশিয়ার জাতীয় দলগুলোর সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিন। তবে দেশটিতে সাম্প্রতিক হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সোমবার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী ম্যাচ। ‘এ’ গ্রুপের এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২৯ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি একই শহরের কিং ফাহাদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ৭২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামেই হবে উদ্বোধনী ম্যাচ।
সৌদি আরবের তিনটি শহরের আটটি ভেন্যুতে মোট ৫১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদে পাঁচটি, জেদ্দায় দুটি এবং আল-খোবারে একটি ভেন্যু রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কয়েকটি দেশ
সূচি ঘোষণা হলেও এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া ২৪টি দেশের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় একাধিক বড় ক্রীড়া আয়োজন বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডাকার র্যালি সৌদি আরবের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনেয়াসু মিয়ামোতোও সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে দেশটিতে এশিয়ান কাপ আয়োজন কঠিন হতে পারে।
মিয়ামোতো বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম থেকে যা জানতে পেরেছি, তাতে পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। তাই এই মুহূর্তে সেখানে এশিয়ান কাপ আয়োজন সহজ হবে বলে মনে করি না।’
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি পক্ষের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা সবার নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার উদ্বেগ
রোববার ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য উড়ে আসা অস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জেদ্দা, তাইফ, রাবিগ ও মক্কা প্রদেশের ওয়াদি আল-মুগাম্মাস এলাকায় পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার কারণে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হয়েছিল।
পরে শনিবার রাতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার থেকে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হবে। প্রথম টার্মিনাল ব্যবহার করা হবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য।
প্রয়োজনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছোতে পারে
এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা চলতি মাসে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সৌদি আরবের স্থানীয় আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, তারা এখনো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
সূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা আগামী জানুয়ারিতে প্রতিযোগিতা শুরুর পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আয়োজনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
এসি/আপ্র/২৬/১০/২০২৬