মাত্র দুই মিনিটেই আর্সেনালের জালে লুটোপুটি খেয়েছিল বল। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই আক্রমণের ঝড় তোলে দলটি, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত চেলসিকে হারিয়ে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা অক্ষুণ্ন রাখল মিকেল আর্তেতার দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের জমজমাট এই লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতেছে আর্সেনাল।
মর্গ্যান রজার্সের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ, আর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর। এফএ কমিউনিটি শিল্ড জিতে মৌসুম শুরু করা আর্সেনাল এই জয়ের মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেল। বেশিরভাগ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখা আর্সেনাল আক্রমণেও দেখিয়েছে স্পষ্ট আধিপত্য। গোলের জন্য তাদের নেওয়া ১৬টি শটের মধ্যে ৯টিই ছিল লক্ষ্যে।
অন্যদিকে ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা মরিয়া হয়ে ওঠা চেলসি ১৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র পাঁচটি।
তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে আর্সেনাল।
সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এদিকে মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া চেলসি ৬ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে চার নম্বরে। চলতি মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রাখা আর্সেনাল এই ম্যাচে লড়াই শুরু হতেই পিছিয়ে পড়ে।
প্রতিপক্ষের একটি ফ্রি কিকে ডি-বক্সে উড়ে আসা বল সুযোগ পেয়েও ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি তারা, আর এরপর সতীর্থের হেড পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন রজার্স। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দেওয়া এই ইংলিশ মিডফিল্ডার চেলসির হয়ে করলেন দুটি গোল।
গোল হজম করার পরই প্রবল চাপ তৈরি করতে শুরু করে আর্সেনাল, একের পর এক আক্রমণে ওঠে দলটি। এর তিন মিনিট পর মার্টিন ওদেগোরের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিক থেকে দারুণ পজিশনে বল পান রিকার্দো কালাফিওরি, তবে শট নিতে ব্যর্থ হন তিনি।
কিছুক্ষণ পরই এই ইতালিয়ান ডিফেন্ডার গোলমুখে জটলার মধ্যে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠালে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্সেনাল সমর্থকরা, তবে ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের বাঁশি বাজিয়ে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে মরিয়া হয়ে ওঠা এই প্রতিপক্ষকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি চেলসি। ২৫তম মিনিটে ডেক্লান রাইসের পাস ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে দলকে সমতায় ফেরান হাভার্টজ।
অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও শেষ পর্যন্ত তা রুখতে পারেননি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। জোয়াও পেদ্রোর পাস ধরে ড্রিবল করে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন পেদ্রো নেতো, তবে বল গিয়ে বাধা পায় দূরের পোস্টে।
দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে ৫০তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে পাস বাড়ান ক্রিস্তস জলিস, আর দারুণ দক্ষতায় শেষ মুহূর্তে ডামি করে বল ছেড়ে দেন হাভার্টজ। সেই বল ধরে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন অধিনায়ক ওদেগোর।
৬৮তম মিনিটে আবারও চেলসির রক্ষণে ভীতি ছড়ায় আর্সেনাল, তবে এবার দারুণ এক সেভে ব্যবধান বাড়তে দেননি মার্তিনেস—সাকার দূরের পোস্টে নেওয়া জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগের মিনিটে দ্বিতীয় গোল পাওয়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিল চেলসি, তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এস্তেভোঁর জোরাল শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক দাভিদ রায়া।
ডিসি/আপ্র/০৭/০৯/২০২৬