সবশেষ ১০ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অধরা সেঞ্চুরি, সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও ব্যর্থ তবু অবিশ্বাস্যভাবে দল থেকে বাদ পড়লেন না মার্নাস লাবুশেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা ধরে রাখলেন দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তবে সম্ভাব্য একজন বিকল্পও রাখা হয়েছে স্কোয়াডে, আর সেই নামটিও যথেষ্ট চমক জাগানিয়া।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলে ফিরেছেন কুপার কনোলি, যাকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা মাত্র ১৩ ম্যাচের, এখনও শতরানের স্বাদই পাননি তিনি। ক্যারিয়ারে তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন মাত্র একবার, আর চার নম্বরে চারবার। গত মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে তাকে নিয়ে উচ্চাশার কোনো কমতি নেই। সীমিত ওভারের স্কোয়াডে নিয়মিতই সুযোগ পান কনোলি, আর গত বছর শ্রীলঙ্কায় তার টেস্ট অভিষেকও ঘটে যায়।
যদিও সেই একমাত্র ইনিংসে ভালো কিছু করতে পারেননি তিনি, তবু মূলত তার প্রতিভার প্রতি আস্থা রেখেই এবার আবার সুযোগ দেওয়া হলো এই তরুণকে। তবে দলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা লাবুশেনের টিকে যাওয়াই। তার ফর্ম নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সর্বশেষ অ্যাশেজের ব্রিজবেন টেস্টের পর আর কোনো ফিফটি নেই তার ব্যাটে। সবশেষ সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, যা এখন তার সবশেষ ৪৩ ইনিংস আগের ঘটনা।
এই সময়ের মধ্যে তার ব্যাটিং গড় নেমে এসেছে মাত্র ২৪.৬৯-এ। এমন টানা বাজে ফর্মের পরও কারও দলে সুযোগ পাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বাস্তবতায় রীতিমতো বিরল একটি ঘটনা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজের সময় ধারাভাষ্যে সরাসরিই সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মন্তব্য করেছিলেন, এই ব্যাটসম্যানকে অনেক আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল।
টেস্ট সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে সিরিজের দল থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি। তবে টেস্টে নির্বাচকরা আরেকবার সুযোগ দিলেন তাকে। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি বিশ্বাস করেন, র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর এই ব্যাটসম্যান এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
এ প্রসঙ্গে বেইলি বলেন, লাবুশেনের কাছ থেকে তারা আরও বেশি রান প্রত্যাশা করছেন, এই সত্যটি তারা অস্বীকার করছেন না—বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে তারা এ বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী যে, লাবুশেন এখনও দলে একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম।
তার মতে, লাবুশেন এই সিরিজের জন্য নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন এবং তা আরও উন্নত করার চেষ্টা করবেন। যেহেতু সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজে তিনি দলে থাকছেন না, তাই তার জন্য বিষয়টি কিছুটা সহজ হয়ে যেতে পারে এবং তিনি পুরোপুরি লাল বলের ক্রিকেটের প্রতিই মনোযোগ দিতে পারবেন, যা তার জন্য একটি সুবিধা হিসেবেও কাজ করতে পারে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক। স্পিন বিভাগেও রয়েছে কিছুটা চমক। ন্যাথান লায়নের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে ম্যাথু কুনেমানকে।
উল্লেখ্য, গত অ্যাশেজে লায়ন চোটের কারণে ছিটকে পড়ার পর সে সময় সুযোগ পেয়েছিলেন টড মার্ফি, তবে এবার এই অফ স্পিনারের বদলে দলে ফিরলেন বাঁহাতি স্পিনার কুনেমান। দলে ফিরেছেন গত অ্যাশেজে দারুণ বোলিং করা পেসার মাইকেল নিসারও।
এছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফেরা ম্যাট রেনশ নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন, আর দ্বিতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে টিকে গেছেন জশ ইংলিসও।
আগামী ৯ অক্টোবর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত সেই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির সিরিজের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া দল।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, মাইকেল নিসার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বাউ ওয়েবস্টার।
ডিসি/আপ্র/০৭/০৯/২০২৬