দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। দলের জাদুকরী অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করেও হার থেকে রক্ষা করতে পারেননি দলকে। মেজর লিগ সকারের এই ম্যাচে ঘরের মাঠে মায়ামিকে দুই এক গোলে পরাজিত করেছে টরন্টো এফসি। এই হারের মাধ্যমে আরও দীর্ঘায়িত হলো মায়ামির চলমান দুঃসময়।
দুই দলের শক্তি ও সামর্থ্যের ফারাক বিবেচনায় এটিকে বড় অঘটন বললেও কম বলা হয়। ঘরের মাঠে মায়ামির বিপক্ষে এটি টরন্টোর প্রথম জয়। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে এটি তাদের মোটে দ্বিতীয় জয়। এই পরাজয়ের ফলে লিগে টানা চার ম্যাচ জয়হীন রইল মেসির দল। এমনকি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই মায়ামির খেলা ছিল ছন্দহীন। একাদশ মিনিটে টরন্টোর দর্দে মিহাইলোভিচের শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে বেঁচে যায় মায়ামি। পঞ্চদশ মিনিটে মেসির পাস থেকে বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হার্মান বের্তেরামে। উনিশ মিনিটে লুইস সুয়ারেস দারুণ সুযোগ পেয়েও বল বাইরে মেরে বসেন। প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই কোনো আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি। ২৬তম মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন মায়ামির ডিফেন্ডার গন্সালো লুহান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও মায়ামির রক্ষণে চোটের হানা অব্যাহত থাকে। ৫৮তম মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন আরেক ডিফেন্ডার সের্হিও রেগিলন। এই ছন্দপতনের সুযোগ নিয়ে দ্রুত দুই গোল করে বসেন অতিথিরা। রেগিলন মাঠ ছাড়ার মিনিট খানেকের মধ্যে বক্সের মাথা থেকে চার ডিফেন্ডারকে ভেদ করে দারুণ এক গোল করেন মার্কিন ফরোয়ার্ড জশ সার্জেন্ট। এর তিন মিনিট পর আরও একটি গোছানো আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেরেক এটিয়েন জুনিয়র।
একের পর এক আক্রমণে ব্যাকফুটে চলে যায় স্বাগতিকরা। ৮১তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে তৃতীয় গোল হজম করতে বসেছিল তারা, তবে মিহাইলোভিচের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ইয়ান ফ্রে। এর পরের মিনিটেই মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো দে পলের চোখধাঁধানো ডিফেন্সচেরা পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমান লিওনেল মেসি।
চলতি লিগে এটি তার চতুর্দশ গোল। বাকি সময়ে সমতায় ফেরার মতো কোনো আক্রমণই তৈরি করতে পারেনি মায়ামি।
নির্ধারিত ও যোগ করা সময়ের আট মিনিটে তারা মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা সহজেই লুফে নেন টরন্টোর গোলকিপার। এই হারেও অবশ্য ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ইন্টার মায়ামি। একুশ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। তবে সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ন্যাশভিল।
ডিসি/আপ্র/২৩/০৮/২০২৬