ম্যাকাই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারলেও ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গৌরবময় স্মৃতি মলিন হয়ে যায়নি। ঐতিহাসিক সেই জয়ের সুফল এবার হাতেনাতে পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্মরণীয় ওই জয়ই বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
দীর্ঘ ছাব্বিশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।
ডারউইনে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পরই বাংলাদেশের ছয়ে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে আইসিসির আনুষ্ঠানিক হালনাগাদকৃত র্যাঙ্কিংয়ে সেটির চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলে গেল।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের আগের সেরা অবস্থান ছিল সাত। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার সুবাদে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছিল দল।
যদিও পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে সফরের পর সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এবার নাজমুল হোসেন শান্তর দল পারফরম্যান্সের সুবাদে পৌঁছে গেল নতুন এক উচ্চতায়। ৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ।
দুই ম্যাচের এই সিরিজ ড্র হওয়ার পর টাইগারদের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। নতুন এই অবস্থানে পৌঁছে তারা পেছনে ফেলেছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে।
হালনাগাদ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট ৭৫ এবং শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৭৬। অন্যদিকে, ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেলেও ডারউইনে প্রথম টেস্টে পরাজয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার রেটিং পয়েন্ট ১৩১ থেকে কমে এখন ১২৬ হয়েছে, তবুও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে তারা।
তালিকার অন্য দলগুলোর মধ্যে একশো উনিশ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া একশো ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিনে নিউজিল্যান্ড এবং একশো চার পয়েন্ট নিয়ে চারে অবস্থান করছে ভারত। বাংলাদেশের ঠিক ওপরে থাকা ইংল্যান্ডের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৯৯।
উল্লেখ্য, এর আগে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও নিজেদের ইতিহাসের সেরা অবস্থান হিসেবে ছয় নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের মে মাসে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে প্রথমবার এই উচ্চতা স্পর্শ করেছিল দল।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সেরা অবস্থান ছিল ২০১২ সালের জুলাইয়ে চতুর্থ স্থান, যদিও সেসময় ফরম্যাটটি নতুন থাকায় অন্যান্য দলের কম ম্যাচ খেলার প্রভাব র্যাঙ্কিংয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। টেস্টের কুলীন ফরম্যাটে এই অগ্রগতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথকে আরও সুগম করল।
ডিসি/আপ্র/২৩/০৮/২০২৬