গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশে টেকসই টুনা শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে পাইলট প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ জন্য যৌথভাবে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে রয়েছে বাংলাদেশের সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি লিমিটেড এবং শতাব্দী হাই বাংলাদেশ লিমিটেড।
নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত একমাত্র কারিগরিভাবে উপযুক্ত দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭৭ টাকা ব্যয়ে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল আহ্বান করা হলেও তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। মূল্যায়নের পর একটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় দুটি টুনা ফিশিং ভেসেল ভাড়া করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ১২টি সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অভিযানের মাধ্যমে টুনা ও সমজাতীয় মাছের মজুত ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া দেশে লাভজনক ও টেকসই টুনা ফিশিং শিল্প গড়ে তুলতে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা ও মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনবলকে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৬/২০২৬