গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের লড়াই

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর?

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৩ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০০ এএম ২০২৬
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর?
ছবি

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর?

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবারো ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন। তবে সংসদে ক্ষমতাসীন দলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফল অনেকটাই অনুমেয়।

১৯৯১ সালের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার যে ধারাবাহিকতা চলে আসছিল, এবার তা ভাঙতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জামায়াত-জোট ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

রোববার রাতে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলটির মহাসচিব।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগেই দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

সংসদে বিএনপির স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা পড়লে প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।


সংসদে আসনসংখ্যার হিসাবে অবশ্য বিএনপির প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। দলটির মিত্রদের আসনসহ তাদের সংসদীয় শক্তি আরো বেশি। অন্যদিকে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের মিত্রদের নিয়ে ১১ দলীয় জোটের আসনসংখ্যা ৭৭।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিরোধী দল জানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এরপরও প্রার্থী দেওয়া রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। ১৯৯১ সালেও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছিল এবং পরাজিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদারের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত। ক্ষমতাসীন দল যাকে চাইবে, তিনিই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বদলে এবার অন্তত ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে-এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি।

যেভাবে নির্বাচন: সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেন। সর্বোচ্চ বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি একজন বৈধ প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তাহলে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তাঁকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সামনে এসেছে। মনজিল মোরসেদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের প্রশ্ন উঠতে পারে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ বলেছেন, তাঁরা জিতবেন না হারবেন, সেটি মুখ্য নয়; জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অবস্থান নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

শপথের প্রস্তুতিও শুরু: নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছয়টি কমিটি গঠন করেছে।

রোববার এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে সমন্বয় কমিটি, নথিপত্র ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি, আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি, আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অভ্যর্থনা কমিটি।

কমিটিগুলো প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো দ্রুত সভা করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সচিবকে অবহিত করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংস্কারের প্রস্তাব: ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে। এতে একক সংসদের পরিবর্তে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে আইনসভার সদস্যদের গোপন ব্যালটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। বিএনপির সংস্কার প্রস্তাবেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থা ও সংসদ সদস্যদের ভোটদানের স্বাধীনতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণভোটে বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে যে প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব সংস্কারের বাস্তবায়ন কতটা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ফলে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হওয়ার পথে থাকলেও সংসদের বর্তমান আসনবিন্যাসে ফলাফলের পাল্লা ক্ষমতাসীন দলের দিকেই ভারী। এখন দেখার বিষয়, মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষে কতজন প্রার্থী বৈধ থাকেন এবং ২০ আগস্টের ভোটে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত কতটা অর্থবহ হয়ে ওঠে।
সানা/আপ্র/১০/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মার্কিন সেফ হাউজ নিয়ে ফরহাদ মজহারের বিস্ফোরক দাবি
০৯ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন সেফ হাউজ নিয়ে ফরহাদ মজহারের বিস্ফোরক দাবি

পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্য

গণজোয়ারে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন, বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা
০৫ আগস্ট ২০২৬

গণজোয়ারে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন, বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

৫ আগস্ট ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

লাশের ওপর উঠে উল্লাসের অভিযোগ বড় বোনের
০৩ আগস্ট ২০২৬

লাশের ওপর উঠে উল্লাসের অভিযোগ বড় বোনের

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই