গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

মেনু

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, ঢাকাতেও দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে

গ্যাস-জ্বালানি সংকটে বাড়ছে লোডশেডিং, জনজীবন বিপর্যস্ত

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:৪২ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৬ এএম ২০২৬
গ্যাস-জ্বালানি সংকটে বাড়ছে লোডশেডিং, জনজীবন বিপর্যস্ত
ছবি

প্রতিনিধিত্বকারী ছবি

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। অথচ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি উঠলেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সরবরাহব্যবস্থা। গ্যাসের সংকট, কয়লা ও তরল জ্বালানির ঘাটতি, কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একসঙ্গে কমে গেছে উৎপাদন। এর সঙ্গে গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় আবারও তীব্র হয়েছে লোডশেডিং। গ্রাম থেকে রাজধানী—কোথাও স্বস্তি নেই। কোনো কোনো গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে; ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও দিনে চার-পাঁচ দফা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ঘণ্টাভিত্তিক হিসাবে, ওই দিন বেলা ৩টায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট, যা দিনের সর্বোচ্চ। বিকেল ৪টাতেও ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৮১ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮৫১ মেগাওয়াট এবং রাত ৯টায় ২ হাজার ৮৩৭ মেগাওয়াট।


অর্থাৎ শুধু সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়েই নয়, দিনের মধ্যভাগেও বিদ্যুতের বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এর আগে ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দিনের বেলায় তা ৮০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বেড়ে যায়।

৬২ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত
দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি সরকারি, ৭০টি বেসরকারি এবং তিনটি ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৬২টির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ২০টিতে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ ছিল; বাকিগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। ফলে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আগস্ট মাসের হিসাবে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কিন্তু স্থাপিত সক্ষমতা আর বাস্তবে পাওয়া বিদ্যুতের মধ্যে বড় ব্যবধানই এখন সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

গ্যাস আছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বরাদ্দ কম
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস। দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ তার তুলনায় অনেক কম। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিনে প্রায় ৯৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার জায়গায় তা কমিয়ে প্রায় ৮৯ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে।

পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক হিসাবে, ২৭ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৪৪ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে প্রায় ১৬২ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এসেছে প্রায় ৭৪ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও জাতীয় চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো বড়।

গ্যাস সরবরাহের এই সংকটের পেছনে দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে অনিশ্চয়তা দুটিই কাজ করছে। জুলাইয়ে মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সরবরাহ বড় ধাক্কা খায়। পরে টার্মিনালটি ধাপে ধাপে চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আবার একটি টার্মিনালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কার্গো ভেড়াতে সমস্যা হয় এবং পরে কার্গো সংকটেও সরবরাহ কমে যায়।

এলএনজি টার্মিনাল চালু, তবু কাটছে না সংকট
বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল থেকেই সরবরাহ চালু রয়েছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ আগের চরম সংকটের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করার মতো পর্যাপ্ত গ্যাস এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

এর কারণ, একটি টার্মিনাল চালু হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যাওয়া নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাপ, নির্ধারিত বরাদ্দ, কেন্দ্রের নিজস্ব কারিগরি অবস্থা এবং অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমানে সীমিত গ্যাস শিল্প ও সার উৎপাদনের মতো খাতেও সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত গ্যাস দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

কয়লা ও তরল জ্বালানিতেও চাপ
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহেও সমস্যা রয়েছে। পায়রা ও মাতারবাড়ীর মতো বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদনেও বিভিন্ন সময়ে কারিগরি সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রভাব পড়েছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্রের একটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ আরো কমেছে। প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন; দ্রুততম সময়ে ইউনিটটি চালুর চেষ্টা চলছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একাধিক ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় রয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটিতে একাধিকবার বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় ইউনিট চালু থাকলেও পুরো কেন্দ্রের সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়লা সরবরাহের সমস্যার কারণে ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে আমদানি করা বিদ্যুতের ওপরও প্রত্যাশিত মাত্রায় নির্ভর করা যাচ্ছে না।

তেলচালিত বিদ্যুতে খরচ বাড়ছে
গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে তরল জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তারপরও সংকটের সময়ে এসব কেন্দ্র বেশি চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক হিসাবে, রাতে তরল জ্বালানি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে উৎপাদন থাকে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। কিন্তু জ্বালানি তেলের সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। ফলে চাইলেই এসব কেন্দ্রের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এদিকে বেসরকারি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, পিডিবির সঙ্গে বকেয়া ও অন্যান্য আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে এসব কেন্দ্র থেকে আরো বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

ঢাকায়ও দিনে চার-পাঁচবার
দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিংয়ের বড় ধাক্কা সামলাচ্ছিল গ্রাম ও মফস্বল। এবার সেই ভোগান্তি রাজধানীতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে অনেক এলাকায় এক ঘণ্টার আগে সরবরাহ ফিরছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাতে ও ছুটির দিনেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জালোওয়াশান আখতার খান জানান, প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে ভোগান্তির পাশাপাশি লিফটে আটকে পড়ার ভয়ও থাকছে। বাসায় গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচার বাসিন্দা শর্মিলা শর্মিও জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস—দুই সংকট একসঙ্গে চলছে। কখনো সকালে, কখনো বিকেলে, আবার রাতে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎচালিত চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে; এতে পরিবারের ব্যয়ও বাড়ছে।

গ্রামের ভোগান্তি আরো তীব্র
রাজধানীতে দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ গেলেও গ্রামের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। বিভিন্ন এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ওপর সরবরাহ ঘাটতির বড় অংশ চাপছে।

২৭ আগস্ট রাত ১২টায় জাতীয় পর্যায়ে ২ হাজার ৫৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের এলাকাগুলোতে ঘাটতির বড় অংশ ছিল। এর আগের রাতেও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মোট ঘাটতির বড় অংশ বহন করতে হয়েছে। ফলে গ্রামীণ জনপদে কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থী ও গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে সেচনির্ভর কৃষিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান চালাতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, আর গরমের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত পাখা, বৈদ্যুতিক বাতি ও অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সংকট এখন শুধু বিদ্যুতের নয়
বিদ্যুতের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানায় আটকে নেই। গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রান্নার জন্য বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

একদিকে দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা রয়েছে, অন্যদিকে চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি উঠলেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই বৈপরীত্যই সংকটের গভীরতাকে সবচেয়ে স্পষ্ট করে। সমস্যা কেবল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বা উৎপাদনক্ষমতার নয়; জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রের কারিগরি সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ, আমদানি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সঞ্চালন-বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বিত দুর্বলতাই সংকটকে দীর্ঘায়িত করছে।

বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে এবং বন্ধ থাকা বড় কেন্দ্রগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, একটি সমস্যার সমাধান হওয়ার আগেই অন্য কোনো জ্বালানি বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের স্থায়ী নিশ্চয়তা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কয়লা ও তরল জ্বালানির মজুত ব্যবস্থাপনা এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এই ভোগান্তি থেকে টেকসই মুক্তি পাওয়া কঠিন।

এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই-প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার দেশে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদাও কেন নিরবচ্ছিন্নভাবে মেটানো যাচ্ছে না? আর এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে ‘লোডশেডিং’ কেবল সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির নাম থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে অর্থনীতি, উৎপাদন ও জনজীবনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপের প্রতিচ্ছবি।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

অবৈধ জালে ঝুঁকিতে লাইটার জাহাজ, বাড়ছে সংঘাত
২৪ আগস্ট ২০২৬

অবৈধ জালে ঝুঁকিতে লাইটার জাহাজ, বাড়ছে সংঘাত

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল, বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন নৌপথে অবৈধ মাছ শিকার

কমছে যুক্তরাজ্যের সহায়তা, ঝুঁকিতে সুন্দরবনের হাজারো মানুষ
২৩ আগস্ট ২০২৬

কমছে যুক্তরাজ্যের সহায়তা, ঝুঁকিতে সুন্দরবনের হাজারো মানুষ

প্রকল্পসহ দ্বিপক্ষীয় সহায়তাও বড় ধরনের কাটছাঁট

কুয়েতে পাঠানো হয়নি ২০ টন উপহারের মাছ
২৩ আগস্ট ২০২৬

কুয়েতে পাঠানো হয়নি ২০ টন উপহারের মাছ

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য কেনা হয়েছিল ২০ টন উন্নতমানের মাছ।...

গ্রামের প্রায় অর্ধেক পরিবার ক্ষুদ্রঋণের ওপর নির্ভরশীল
২৩ আগস্ট ২০২৬

গ্রামের প্রায় অর্ধেক পরিবার ক্ষুদ্রঋণের ওপর নির্ভরশীল

আর্থিক চাহিদা মেটাতে দেশের গ্রামের প্রায় অর্ধেক পরিবার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হয়। আনুষ্ঠানি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর চাওয়ার সাথে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে