গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

মেনু

Hasnat Nagasaki -র ফেসবুক টাইমলাইন থেকে

রাশিয়াকে ম্যানেজ করেই ইরানে আক্রমণ করা হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫১ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৭ এএম ২০২৬
রাশিয়াকে ম্যানেজ করেই ইরানে আক্রমণ করা হয়েছে
ছবি

ছবি পোস্টদাতার

এমেরিকা জানে - চীন কোনো প্রকার  যুদ্ধে জড়াবে না। 
আসলেই তাই? 
যদি নিজেকে প্রাণে বাঁচাতে চীনের অন্য কোনো উপায় না থাকে? 
ইরানে আক্রমণের পিছনে কারণ কি?
ইরানের পারমাণবিক অ*স্ত্র? না। ওটা চীন রাশিয়ারও আছে। তাহলে এমেরিকা চীন রাশিয়ায় আক্রমণ করেনি কেন? 
রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক?  না। 
গণতন্ত্র না থাকা?  না। সবচেয়ে সহজ উদাহরণ সৌদি আরব।
ইরানে আক্রমণের কারণ ভেনিজুয়েলায় আক্রমণের কারণ একই।  অর্থাৎ, তেল গ্যাস। 
ভেনেজুয়েলার তেল গ্যাসের জন্য মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে, সরকারে প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে অলরেডি। এখন ভেনেজুয়েলায় মূলত মার্কিন পুতুল সরকার চলছে। 
ইরানে আক্রমণের পিছনেও তেল গ্যাস। 
কিন্তু একটা হিসাবে সবাই ভুল করে। 
ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের পিছনে কারণ কি তাদের তেল গ্যাস দখল করা?  হ্যাঁ, কিন্তু না। 
এমেরিকার তেল গ্যাসের আকাল পড়েনি।
এমেরিকার ইতিমধ্যে যথেষ্ট তেল গ্যাস মজুত রয়েছে। ১৯৭০ থেকে সৌদি আরবের তেলগ্যাস খুব খুব সামান্য দামে কিনে নিয়ে ( কেনা নয়, সেখানে ছিলো এক বিরাট জোচ্চুরি, যা মোটামাথা আরব’রা ধরতে পারেনি) এমেরিকায় বিশাল মজুত তৈরি করেছে। সেই তেল দিয়ে তারা ১০০ বছর চলতে পারবে। এটা করেছে তাদের সেই ব্ল্যাকআউটের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। 
তার উপর এই দশকে তাদের নিজেদের ভূমিতে আবিষ্কার হয়েছে বিশাল বিশাল তেল গ্যাস ক্ষেত্র। 
সুতরাং, এমেরিকার নিজেদের জন্য আর তেল গ্যাসের প্রয়োজন নাই। 
**
তাহলে কেন এমেরিকা ভেনেজুয়েলা দখল (!) করলো? 
এমেরিকার প্রধান টার্গেট চীনের অগ্রযাত্রা থামানো। 
চীনের অগ্রযাত্রায় প্রধান ফুয়েল যায় ভেনেজুয়েলা এবং ইরান থেকে। সাম্প্রতিক দশকে কিছু যাচ্ছে সিল্ক রোড দিয়ে রাশিয়া থেকে। 
চীনের অগ্রযাত্রা থামাতে হলে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের তেল সাপ্লাই বন্ধ করতে হবে। তাহলে চীনের শিল্প বেকায়দায় পড়ে যাবে। 
চীন অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে পণ্য উৎপাদন করে সারা বিশ্ব বাজার দখল করছে। পোশাক, ইলেকট্রনিক, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, খাদ্য, এমনকি অ’স্ত্র পর্যন্ত তারা কম দামে উৎপাদন করছে। শুরুতে গুণগত মানে তারতম্য থাকলেও এখন তাদের পণ্যের মান অ-মৎধফব।
অর্থাৎ তারা অ-মৎধফব মানের পণ্য সমান্তরাল বাজারে মূল্যরেখার অর্ধেক দামে সারা বিশ্বে  সাপ্লাই দিচ্ছে। 
এই যাত্রা অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর মোট বাজারের অর্ধেক চীনের দখলে যেতে আর ১-২ দশক লাগবে। 
এটা শুধু এমেরিকার জন্য নয়, পুরো পুঁজিবাদী বিশ্বের জন্য এলার্মিং। 
সুতরাং, চীনের অগ্রযাত্রা থামানো সকল পুঁজিপতি রাষ্ট্রের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে।। এমেরিকা সেই লাইন বরাবর বল ছুঁড়েছে। এবং পুরো পুঁজিবাদী বিশ্ব সেটা গ্রহণ করেছে, না করে উপায় নেই বলে। 
ঠিক সেই জায়গায় এমেরিকা নির্দ্বিধায়, বিনাসংকোচে ভেনেজুয়েলা দখল করলো। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলার তেল দখল করলো। অর্থাৎ বিশ্ব তেলের বাজার দখল করলো - যাতে চীনের গলা টিপে ধরা যায়। 
কিন্তু  চীনের বাম অলিন্দ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সাপ্লাই বন্ধ হলেও , ডান অলিন্দ ইরান তেল সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে। 
এমেরিকা দুই অলিন্দ বন্ধ করে চীনকে একেবারে হ’ত্যা করতে চায়। 
তাহলে, এই যুদ্ধ মূলত চীন এমেরিকার যুদ্ধ। 
এমেরিকা ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের তেল দখল করতে চায়। কিন্তু তাদের নিজেদের জন্য নয়। চীনের ব্লাড সার্কুলেশন বন্ধ করার জন্য। এই তেল দিয়ে তারা বিশ্ব বাজার নিয়ন্ত্রণে নেবে। তাতে আরো এক্সট্রা মুনাফা আসবে। দুইদিকেই লাভ। 
***
ইরান আক্রমণ মানে চীন এমেরিকার যুদ্ধ। 
বলা যায় - ইরান চীনের পক্ষ নিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। কারণ, রাশিয়া ইরানের পক্ষ নেবে না। 
কারণ অনেক। ৩ টা বলি। 
১. ইরানের তেল বন্ধ হলে রাশিয়ার তেলই হবে চীনের একমাত্র ভরসা। রাশিয়া তখন আরো বেশি দামে তেল বিক্রি করতে পারবে চীনের কাছে। 
এতে রাশিয়ার আরো কিছু লাভ আছে। 
যেমন,
-- সিল্ক রোড দিয়ে তেল দিলে রাশিয়ার ভূমধ্যসাগর, বাল্টিক সাগর, নর্থ সাগর, কৃষ্ণ সাগর, আটলান্টিক সাগর পাহারায় কোটি কোটি ডলার ব্যয় কমে যাবে 
-- সমুদ্র নিয়ে কামড়াকামড়ি আংশিক হলেও কমবে। 
-- রাশিয়ার উষ্ণ পানির সমুদ্র বন্দরের অভাবে বছরের ৬-৮ মাস জাহাজ আটকে যায়। ফলে কৃষ্ণ সাগর ছাড়া অন্য পথ খোলা থাকে না। তখন তাদের বানিজ্যিক আয়, বিশেষত তেল সাপ্লাই কমে যায়। 
সিল্ক রোড দিয়ে চীনকে তেল দিলে এসব হিসেবে মিনিমাম ৫% স্বস্তি আসবে। 
২. তেল গাসের বাজারে ইরান হচ্ছে রাশিয়ার অন্যতম কম্পিটিটর।  ইরানে রেজিম চেঞ্জ হলে ইরানের তেলের আরো কয়েকটা খদ্দের রাশিয়ার হাতে যাবে। 
৩. বিশ্ব পণ্য বাজারে  চীন কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার কম্পিটিটর। যেমন অ’স্ত্র বাজার।
কিন্তু, ইরান আক্রমণের আগে পুতিনকে এসব বলে ম্যানেজ করেনি ট্রাম্প। 
ট্রাম্প পুতিনকে দিয়েছেন ইউক্রেন সহ ইউরোপের অর্ধেক। 
বিনিময়ে এমেরিকা পাবে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের তেল ক্ষেত্রের অধিকার।
অর্থাৎ নিজেদের তেল না থাকা সত্তেও বিশ্ব তেলের বাজারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। (এমেরিকার আবিষ্কৃত তেল উত্তোলন শুরু হয়নি)। 
সুতরাং, উরান শেষ। 
রাশিয়া তাদের জন্য আসবে না। 
চীন যুদ্ধ ভয় পায়। কিন্তু, এটা চীনের জন্য এমেরিকার ‘এটেম্প টু মা’র্ডার’ কর্মসূচি। সে হিসেবে চীন কি ভূমিকা নেয় তা দেখার অপেক্ষা।

[অবিকল প্রকাশ করা হলো]

সানা/আপ্র/৩/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় দান করবেন: জামায়াত আমির
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় দান করবেন: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্য সম্ভাবনাময় এক ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা....

আম-মধুর ব্যবসা, এই জীবনটাই উপভোগ করি: তারেক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আম-মধুর ব্যবসা, এই জীবনটাই উপভোগ করি: তারেক

সরকারি চাকরির সুযোগ না পেয়ে আম ও মধুর ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো....

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল, মনে করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামী
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল, মনে করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামী

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই