সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্ধারিত তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তার মনোনয়নপত্র বাতিলই বহাল থাকছে।
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মনিরা শারমিন। বাছাইপর্বে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিল করলে তা চ্যালেঞ্জ করে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মনিরা শারমিন বলেন, “এখন আমি হাই কোর্টে আপিল করব।”
এদিকে একই আসন ঘিরে অন্য দুই প্রার্থীর বিষয়ে করা আপিলও খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী জীবা আমিনা খানের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে দলের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য মাসুদ মৃধা আপিল করেছিলেন। তবে তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় আপিলটি গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানায় কমিশন।
অন্যদিকে, বিএনপির আরেক প্রার্থী মাধবী মার্মার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন যথাযথভাবে দাখিল না হওয়ায় তা নথিভুক্তই হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জীবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে করা আপিলটি যথাযথ না হওয়ায় খারিজ করা হয়েছে এবং মাধবী মার্মার বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে কোনো বৈধ আপিল জমা পড়েনি।
তবে বিএনপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই দুই প্রার্থীর বিষয়েও উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এদের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
সাধারণত সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন—এবারও সেই পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত মিলছে।
সানা/আপ্র/২৭/৪/২০২৬