গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

দেশে এখন ‘গোঁজামিলের রাজনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি’ চলছে: ডা. শফিকুর রহমান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২১ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৩ এএম ২০২৬
দেশে এখন ‘গোঁজামিলের রাজনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি’ চলছে: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি

ডা. শফিকুর রহমান -ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন “গোঁজামিলের রাজনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি” চলছে। সরকারি দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ যেন “তেলের ওপর ভাসছে”।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশে (কেআইবি) এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের আয়োজিত “বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম মাহবুব ই ইলাহী তাওহীদ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষির বিপর্যয় ঘটলে পুরো জাতি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম ঠিকভাবে চালাতে পারছেন না, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

তিনি আরো বলেন, “কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে প্রকৃত অর্থে স্বনির্ভর করে না। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি বাফার স্টক গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিকল্প জ্বালানি ও সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একই সিন্ডিকেট, একই ধরনের গায়ের জোরের রাজনীতি চলতে থাকলে জনগণের স্বার্থে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি নিয়ে প্রতিবাদ করব ইনশাআল্লাহ।”

জাতীয় সংসদের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার মতে, উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে বাস্তব ডেলিভারি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাকে “গোঁজামিল ও টপ-ড্রেসিংয়ের সংস্কৃতি” বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার চেয়ে কাগজে-কলমে উন্নতি দেখানোর প্রবণতা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

তিনি আরো বলেন, একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন এখন জরুরি, যেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন হবে, রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

অনুষ্ঠানে তিনি কৃষিবিদদের সংগঠন নিয়েও মন্তব্য করেন এবং বলেন, মেধাবী পেশাজীবীদের সংগঠনে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সংস্কৃতির অবসান হওয়া উচিত।
সানা/আপ্র/১১/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল
০৩ জুন ২০২৬

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তাই সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্...

বিএনপির হাত ধরেই সংস্কার শুরু, দাবি ফখরুলের
০১ জুন ২০২৬

বিএনপির হাত ধরেই সংস্কার শুরু, দাবি ফখরুলের

দেশের রাজনীতিতে বিএনপির হাত ধরেই সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা...

জামায়াতে গুপ্ত চাঁদাবাজদের আশ্রয়ের অভিযোগ রিজভীর
০১ জুন ২০২৬

জামায়াতে গুপ্ত চাঁদাবাজদের আশ্রয়ের অভিযোগ রিজভীর

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, অনেক ‘গুপ্ত চাঁদাবাজ’ জামায়াতে ইসলামীর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে