গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মেনু

ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৮ পিএম, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৩ এএম ২০২৬
ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ -ছবি সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্ষণের মামলা কিছুটা বেড়েছে বলে যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ হলো এখন ভুক্তভোগীরা সহজেই মামলা করতে পারছেন। আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মামলা করতে পারতেন না বা করতে চাইতেন না। বর্তমানে থানায় গেলে মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি অনলাইনেও সাধারণ ডায়েরি ও এজাহার দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই বলেই ধর্ষণের মামলার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মার্চ ও এপ্রিল মাসের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সবাই আগ্রহ নিয়ে শোনেন। তবে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন যদি মন্ত্রণালয়ের কাজে আরো বেশি দেখা যেত, তাহলে তিনি ছাঁটাই প্রস্তাব আনতেন না।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে তথ্য-উপাত্তসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় সব সূচকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যতিক্রম।

এর ব্যাখ্যায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে যেতেন না কিংবা গেলেও মামলা নেওয়া হতো না। এখন থানায় গেলেই মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি ও এজাহার দাখিলের সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় মামলা নথিভুক্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে এখন দ্রুত আসামি গ্রেফতার, অভিযোগপত্র দাখিল, সাক্ষ্য উপস্থাপন এবং বিচারকাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলার বিচার ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড। তনু হত্যা মামলার আসামিদেরও ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অপরাধ দমনে সরকার দলীয় পরিচয় বিবেচনা করছে না। কেউ অপরাধ করলে তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজনৈতিক পরিচয়কে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির বিষয়টি ছাড়া অন্য প্রায় সব ক্ষেত্রেই সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইন বেটিংয়ে কঠোর আইন, সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা: জাতীয় সংসদে দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো ঔপনিবেশিক যুগের জুয়া-সংক্রান্ত আইন বাতিল করে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব ধরনের জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ এটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

নতুন আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরোনো আইন বর্তমান সময়ের অনলাইন ও ডিজিটাল জুয়ার বিস্তার মোকাবিলায় অপ্রতুল। সংবিধানের নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সুপারিশের আলোকে আধুনিক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বুকমেকিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনাসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইনে মোট ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, বেটিং কার্যক্রম, জুয়ার স্থান পরিচালনা, জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন, ভুয়া সিম ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, এবং ভিপিএন–নির্ভর অবকাঠামো ব্যবহার।

শাস্তির বিধানে সাধারণ জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এবং অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে ভুয়া সিম, এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এবং অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও দায়ী করা যাবে। অপরাধে ব্যবহৃত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইনসহ সব ধরনের অবকাঠামো বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অনলাইন জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে এবং সব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে জুয়া-সম্পর্কিত ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সম-মএফএস লিংকিং ব্যবস্থা এবং আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, এই আইন কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার
০১ জুলাই ২০২৬

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার ক...

নিকৃষ্টতম অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ইনু: জাসদ
০১ জুলাই ২০২৬

নিকৃষ্টতম অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ইনু: জাসদ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক...

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তি
৩০ জুন ২০২৬

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তি

আগামি ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রের ২০০ গজের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই