রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের আগে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বেলা ১১টা ৪১ থেকে ৪২ মিনিটের মধ্যে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আমতলী এলাকায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর জানান, বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪। এটি স্বল্পমাত্রার বা মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশ ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দীন আহমেদও জানান, ভালুকার আমতলী এলাকায় ৩ দশমিক ৪ মাত্রার মৃদু কম্পন সৃষ্টি হয়। স্থানটি ঢাকা থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
অন্যদিকে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর অবস্থান ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ময়মনসিংহ শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখীপুর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৩৩ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০ দশমিক ৩৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পনের উৎপত্তি হয়।
স্বল্পমাত্রার হলেও রাজধানীর অনেক বাসিন্দা ভূকম্পনটি অনুভব করেন। কেউ কেউ হালকা দুলুনি টের পাওয়ার পাশাপাশি মুঠোফোনে সতর্কবার্তাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে ভূমিকম্পের উৎপত্তির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়াকে তারা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। বিশেষ করে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে হবিগঞ্জে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সাধারণত রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে মৃদু হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়, যা প্রধানত ঘরের ভেতরে থাকা ব্যক্তি বা বহুতল ভবনের বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারেন।
সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র
সানা/আপ্র/২৬/৫/২০২৬