গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চোখে মা ও মা দিবস

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৩ পিএম, ১০ মে ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৫ এএম ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চোখে মা ও মা দিবস
ছবি

ছবি আজকের প্রত্যাশা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘মা’। সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় শব্দও ‘মা’। মায়ের চেয়ে আপন পৃথিবীতে কেউ নেই। সব ধর্মে মায়েদের স্থান সবার উপরে। মা সম্পর্কটাকে কেবল দিবস দিয়ে বিচার করা যায় না। তবে মা দিবস সন্তানের কাছে ভালোবাসা প্রকাশের বিশেষ দিন। যারা মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন, মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেন না, মা দিবসটি তাদের জন্যই বিশেষ। মা দিবসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা। 
যা লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন -আজকের প্রত্যাশার প্রতিনিধি আবু তাহের।

 

মাকে নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘মা শব্দটা যত ছোট, তার ভেতরের জগৎ ততটাই অসীম। এই এক অক্ষরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব আশ্রয়, সব শান্তি, সব নিরাময়। মা’র কোল যেন এমন এক ছায়া, যেখানে ক্লান্তি এসে থেমে যায়, আর ব্যথা ধীরে ধীরে ভুলে যেতে শেখে তার নিজের অস্তিত্ব। রাত জেগে সন্তানের পাশে বসে থাকা সেই মুখটা, যেন নিঃশব্দ প্রার্থনার সবচেয়ে সুন্দর রূপ-যেখানে চাওয়া নেই, আছে শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মায়ের চোখে যে নীরব কান্না লুকিয়ে থাকে, তা পৃথিবীর কোনো শব্দে অনুবাদ করা যায় না-কারণ সেই কান্না শুধু অনুভবের ভাষা জানে।
আর জীবনের সব হারানোর মাঝেও, ‘মা আছে’ এই একটি বাক্যই মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সাহস হয়ে দাঁড়ায়।’

 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার অমি বলেন, ‘মা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম। যে মানুষটি নিজের সুখ ত্যাগ করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান, তিনিই মা। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ আর আশীর্বাদ আমাদের সাহস জোগায়। মায়ের ছায়া যেন এক নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে দুঃখ-কষ্টও শান্ত হয়ে যায়। মা দিবস শুধু একটি দিন নয়, বরং মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। মায়ের অবদান কখনো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় শক্তি। আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি মা, হাসিতে ভরে উঠুক তাদের জীবন।’

 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জায়েদ আহাম্মদ বলেন, ‘মা একটিমাত্র শব্দ অথচ এর বিস্তার অনন্ত। জন্মের পূর্ব মুহূর্ত থেকেই যিনি সন্তানের অস্তিত্বকে আপন সত্তায় ধারণ করেন, জন্মের পর নিঃস্বার্থ স্নেহ, ত্যাগ ও মমতায় যিনি জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলেন তিনি মা।
মানবজীবনের সবচেয়ে নির্মল আশ্রয়, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম মা। সন্তানের হাসির জন্য একজন মা নিজের স্বপ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য নির্বাকেই বিসর্জন দেন। সন্তানের বেদনায় যার হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়, সন্তানের সাফল্যে যার চোখ আনন্দে দীপ্ত হয় তিনিই মা।
মায়ের মহিমা কোনো নির্দিষ্ট দিবসের সীমায় আবদ্ধ নয়। তবুও আন্তর্জাতিক মা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশে যেনো আমরা কখনো উদাসীন না হই। আজ পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা—পৃথিবীর প্রতিটি মাকে শান্তি, সম্মান ও কল্যাণে পরিপূর্ণ রাখুন, ইহকাল ও পরকালে।’

 

স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সেলিনা আক্তার শেলী বলেন, ‘মা শুধু একটি শব্দ নন, তিনি একজন মানুষের পুরো জীবনের অনুভূতি, শক্তি ও আশ্রয়ের নাম। আমার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যিনি নীরবে সাহস জুগিয়েছেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন তিনি আমার মা। নিজের স্বপ্ন, ক্লান্তি ও না-পাওয়াগুলো আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার যে অসাধারণ ক্ষমতা একজন মায়ের থাকে, তা সত্যিই অতুলনীয়। আমি আজ যে মানুষ হয়ে উঠছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের ত্যাগ, ধৈর্য ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার।
অনেক সময় আমরা মায়ের ভালোবাসা বুঝতে পারি না, অভিমান করি, অথচ তাঁর প্রতিটি ছোট ছোট ত্যাগ আমাদের জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। মা কখনো নিজের কথা ভাবেন না; সন্তানের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মা দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। পৃথিবীর প্রতিটি মা ভালো থাকুন, সম্মানিত হোন, আর সন্তানের ভালোবাসায় আজীবন আলোকিত থাকুন। মা দিবসের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিও ‘আম্মু’।’

 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘অকুণ্ঠ ভালোবাসার অনন্ত উৎস হলো মা। পৃথিবীর যত স্নিগ্ধ সুন্দর ফুল তার চেয়েও সুশ্রী হলো মা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ করুণার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হলো মা। নিঃস্বার্থ ত্যাগের মূর্ত প্রতীক হলো মা,যার স্নেহের আঁচল আমার জীবনে তপ্ত রোদের শীতল ছাঁয়া হয়ে থাকে। মা হলো অভেদ্য অবলম্বন। সীমাহীন বিসর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সততা, নৈতিকতা, সহানুভূতি, ধৈর্য, সাহস,মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা সবকিছু যিনি শেখান তিনি হলেন মা। ধরণীর সকল ইতিবাচক থারণা জাগিয়ে দেন মা। সন্তানের জীবনের ধ্রুবক হলো মা। মা শুধু  একজন ব্যক্তি নয়, মা হলো অনুভূতি। সবচেয়ে উৎকর্ষ, সবচেয়ে দক্ষ, সব চেয়ে জান্তা, মহাগুরু, আদর্শ শিক্ষক  হলো মা। 

মা যিনি সন্তানের চাহনি দেখলেই তার মনের অবস্থা, তার চাওয়া বোঝার সক্ষমতা রাখেন। মা হলো বড় সাইকিয়াট্রিস্ট, মা হলো দার্শনিক, মা ডাক্তার, মা উপদেষ্টা, মা ফ্যাশনডিজাইনার, মা হলো পৃথিবী। সকল কাজের মূল অনুষঙ্গ হলো মা। বিষন্নতা, মলিনতা, হতাশা ও ক্লান্তির মহৌষধ হলো মায়ের ক্রোর। সর্বোচ্চ শাসনভার এবং সবকিছু বন্টণের মহাপাল্লা হলো মায়ের হাত। মায়ের হাসির উজ্জ্বলতা যেন শান্তিপূর্ণ  এক শান্তি। মা হলো কারিগর, সুহৃদ, শান্তি, নিঃস্বার্থ, শাসক, ভিত্তি এবং শক্তিশালী শক্তি। মাকে ভালোবাসার কোনো বিশেষ দিন হয়না তবুও এই নির্ধারিত একটি দিনে হাজারো স্মৃতির আল্পনায় খুদে খুদে উপমা দিয়ে আজ মায়ের অর্থাৎ সেই বিশাল হৃদয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অন্তহীন যত্ন, মমতা আর নীরব আত্মত্যাগের  প্রতি রইলো সশ্রদ্ধ সালাম, ভালোবাসা এবং বিনম্র স্বীকৃতি।’
সানা/আপ্র/১০/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতির হার্টে ব্লক, রিং পরানোর পর অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক
১৩ মে ২০২৬

রাষ্ট্রপতির হার্টে ব্লক, রিং পরানোর পর অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হার্টে ব্লক শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে এনজি...

রাজনীতি হওয়া উচিত সংসদে, রাজপথে হইচই করে কিছু গড়া যায় না
১৩ মে ২০২৬

রাজনীতি হওয়া উচিত সংসদে, রাজপথে হইচই করে কিছু গড়া যায় না

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী
১৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জান...

বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সহায়তায় বিশেষজ্ঞ প্যানেল হবে
১২ মে ২০২৬

বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সহায়তায় বিশেষজ্ঞ প্যানেল হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই