যশোরের মণিরামপুরের হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে চারতলা একটি ভবন। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০ জনেরও কম। বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে সেই পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
শুধু হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় নয়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মণিরামপুর উপজেলার আ ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং পাঁচটি দাখিল মাদরাসা রয়েছে।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদরাসা, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদরাসা, নেহালপুর দাখিল মাদরাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসা।
এর মধ্যে ইত্যা স্লুইসগেট, পাড়দিয়া ও নেহালপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত নন। ফলে তারা সরকারি কোনো বেতন-ভাতা পান না।
হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, এবার তাদের নিয়মিত কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। উর্মি মণ্ডল নামে এক শিক্ষার্থী আগে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল। গত বছর পরীক্ষা না দেওয়ায় এবার সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গণিত পড়াতেন। তিনি আট-নয় মাস আগে চলে যাওয়ার পর আর গণিতের শিক্ষক আসেননি। করোনার পর থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ১৭ জন, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে চারজন, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন, নেহালপুর দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন এবং ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদরাসা থেকে চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
সরেজমিন চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পাশের চারটি কক্ষে ১৬ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে। এর মধ্যে দশম শ্রেণিতে একজন, অষ্টম শ্রেণিতে একজন, সপ্তম শ্রেণিতে চারজন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নবম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, ওই শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মাছ ধরার ছুটি নিয়ে চলে গেছে।
বিদ্যালয়টির শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, এবার বিদ্যালয় থেকে তিনজন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের একজন নিয়মিত এবং দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল। কেউই পাস করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীর ঘাটতি নেই। তবে বছরের বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে। এ কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী হন না।
মণিরামপুরের শতভাগ অকৃতকার্য পাঁচটি মাদরাসার একটি নেহালপুর দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, ছয়জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। তারা বেতন না পাওয়ায় শিক্ষকেরাও নিয়মিত ক্লাস নিতে আগ্রহী হন না।
মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফার হোসেন বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি মাদরাসা এমপিওভুক্ত নয়। বাকি চার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসি/আপ্র/১১/০৮/২০২৬