যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে শিশুদের জন্য নিয়মিতভাবে সুপারিশ করা টিকার সংখ্যা ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সম্মিলিত এমএমআর টিকা আলাদা করে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের তুলনামূলকভাবে কম টিকা দেওয়া হতো। বর্তমানে অটিজমের হার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে টিকার সংখ্যা কমানোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন তিনি। তবে বহু গবেষণায় টিকা, বিশেষ করে এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১ শিশুর ওপর পরিচালিত একটি বড় গবেষণাতেও এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি।
নতুন নির্দেশনায় সব শিশুর জন্য হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, পোলিও, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস এবং জলবসন্তের টিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমএমআর টিকা একসঙ্গে না দিয়ে হাম, মাম্পস ও রুবেলার জন্য আলাদা টিকা আলাদা সময়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, একসঙ্গে এমএমআর টিকা দিলে ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এমএমআর টিকার গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি খুবই কম। সংস্থাটি বলছে, এমএমআর টিকা নেওয়া হাম, মাম্পস বা রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক সুবিধার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন শিশু চিকিৎসকদের সংগঠনসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও রাজনীতিক। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রাসিন এটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, টিকা দেওয়া পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাম ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে।
রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এবং টিকার কারণে অটিজম হয় না।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য টিকাদান বন্ধ করা নয়; বরং অভিভাবকদের আরো বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
এদিকে, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন টিকা বাধ্যতামূলক হবে, সে সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো নেয়। ফলে প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী নির্দেশনা সরাসরি সব অঙ্গরাজ্যের টিকা-সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করে না।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টিকা নেওয়ার হার কমে গেলে হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগের সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান টিকাদান নীতিতে শিশুদের বয়স ও রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় টিকা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র: বিবিসি
এসি/আপ্র/১১/০৮/২০২৬