বৈশাখের মাঝামাঝিতে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী, মগরা ও মনু নদীর পানি প্রাকমৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরীর ৫০ সেন্টিমিটার, মনুর ৭২ সেন্টিমিটার এবং মগরার পানি ২ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে।
সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ইতিমধ্যে দুটি জেলায় বন্যা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও তিন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১, ফেনীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ১১৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১৪, কুমিল্লায় ১০৩, আমবাগানে ৯২, পটুয়াখালীতে ৯১ এবং নেত্রকোণায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, চলমান বৃষ্টিপাত আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬