দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বর্তমানে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ১০টি এবং তেলভিত্তিক ৮টি কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি আরো ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিকভাবে উৎপাদন কমিয়ে চালু আছে। ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং বেড়ে গেছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।
দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১৪৮২ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৬০ মেগাওয়াট, খুলনায় ৩১৯ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ২১০ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১৯৫ মেগাওয়াটসহ অন্যান্য অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে।
ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী দিনের বিভিন্ন সময় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বারবার লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও দিনে ৬ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা গেছে।
বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস তেল আমদানিতে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ফার্নেস তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে।
বন্ধ থাকা ১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল, মেঘনাঘাট, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি বড় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র এবং বিভিন্ন তেলভিত্তিক কেন্দ্র। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সদস্য জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে এবং গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী ঢাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ অনেক বেশি। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কৃষি কাজ, ছোট শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে এ ধরনের সংকট আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৪/২০২৬