গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায়

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৬ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৭ এএম ২০২৬
দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায়
ছবি

সোমবার বিকালে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির ধুয়া তুলে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জামায়াতকে ইংগিত করে তিনি বলেছেন, “আজ আমরা দেখছি—যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে প্রিয় ভাই-বোনেরা, তারা তো এই দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি, এই দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করেনি প্রিয় ভাই-বোনেরা।
দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদেরকে কি বিশ্বাস করা যায়? তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। ৃ কোনো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে আমরা পা দেব না।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা ইনশাল্লাহ এক এক করে বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বারবার পরিষ্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম যে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা তারা বলা শুরু করেছে।

সংস্কার দাবির নামে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। ১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে। আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। খেয়াল করে দেখবেন, যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে; তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। তারা বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহজে পেতে পারে—সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না।

কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেটির কথা তারা বলে না; তারা শুধু সংবিধান সংবিধান এই বিষয়ে কথা বলে।

ওরা গুপ্ত বিভ্রান্তকারী: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষ্য, ভোটের সময়ের মতো এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তার কথায়, নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের বলেছিলাম যে কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করছে। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও এই বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে তারা। দুদিন আগের ঘটনা, এই গতকালকের ঘটনা— ময়মনসিংহের ওদিকে একটি জেলায় একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। এক ছেলে এক মেয়ের সাথে প্রেম করত, তারা বিয়ে-শাদি করেছে, তাদের পরিবারের সমস্যা; দেখেছেন আপনারা, ফেসবুকে দেখেননি? কিন্তু সাথে কি এটাও দেখেছেন—একটি পারিবারিক, একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তির সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, দেখেছেন আপনারা সবাই?

ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি তারা কীভাবে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে।

’৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি তারা কীভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল দেশের মানুষকে। ’৯৬ সালেও আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সাথে গিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি সেই ওয়ান-ইলেভেনের সাথে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল দেশের মানুষকে।

ওরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে: ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই জনগণকে ‘বিভ্রান্ত’ করা হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই, কৃষক কার্ড করতে চাই, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানীসহ খাল খনন করতে চাই, বৃক্ষরোপণ করতে চাই, দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে এবং দেশে কর্মসংস্থানের কথা করতে চাই।

এসব ব্যাপারে কোনো কাজ করে না। দেখেননি নির্বাচনের সময় কেমন বলেছিল ‘রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড’, মনে আছে? প্রিয় ভাই-বোনেরা, জনগণের স্বার্থে যে কাজ—সেটিকে তারা রেখে দেয়; কিন্তু নিজেদের ক্ষমতা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কীভাবে কুক্ষিগত করতে হবে, সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে।

সমর্থকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয় যেৃদেশ স্বাধীনের আগে থেকে শুরু করে তারা কতবার চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে।

স্বৈরাচারের ভূত ওদের উপরে: রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি রূপরেখা ২০১৭ সালে তুলে ধরেছিলেন দলটির তখনকার চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সেটির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করে বিএনপি।
দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে সময়ে বিএনপি এই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেশের সামনে, জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল, বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল সংস্কারের ‘স’ শব্দটি তখন উচ্চারণ করেনি স্বৈরাচারের ভয়ে। কিন্তু আপনাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশের মানুষের খেটে খাওয়া রাজনৈতিক দল, মানুষের রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশের কৃষকের রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশের মা-বোনদের রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সংস্কার দিয়েছিল। কারণ আমরা দেখেছিলাম স্বৈরাচার বিগত ১৬ বছরে কীভাবে পরতে পরতে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। কীভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিছু মেগা প্রোজেক্ট করে দুর্নীতি করেছে, এর বাইরে কিছু করেনি।

পৈতৃক ভিটা বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষের সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, ঠিক যেভাবে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার বলেছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেলেন, স্বৈরাচার বলেছিল, ‘এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেব না’, মনে আছে? 
সেই একই ভূত কিন্তু আবার এদের উপরেও সওয়ার করেছে। দেখেন কেমন আন্দোলন আন্দোলন কথা বলে আর ব্যক্তিগত ঘটনাকে কীভাবে রাজনৈতিক রূপ দিতে চায়, ঠিক দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনার মতন। ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল, ১৭২ দিনের হরতাল ডাকা হয়েছিল; মনে আছে নিশ্চয়ই আপনাদের। এসময় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জে রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দেন।

এদিন বিকাল পৌনে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে এসে পৌঁছালে হাজারো সমর্থক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সরকারপ্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি, বগুড়া-৬ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় বগুড়ার এমপিরা বক্তব্য রাখেন। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রেস ক্লাবের নির্মিত ভবন এবং বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বগুড়ায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি আলতাফুন্নেছা মাঠেই নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আগমন উপলক্ষে সোমবার জনসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়িতে’ কিছু সময় অবস্থানের পর জনসভা স্থলে আসেন তারেক রহমান।

‘জিয়াবাড়ি’তে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ির জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এরপর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া বাগবাড়ির নশিপুরে তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর আগে বগুড়া পৌর ভবনে সিটি করপোরেশন কার্যক্রম এবং আদালত ভবন থেকে বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালু করেন।
সানা/আপ্র/২০/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি সংকটে ঢাকার প্রায় ২০ শতাংশ বাস উধাও
২০ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে ঢাকার প্রায় ২০ শতাংশ বাস উধাও

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস গত রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় ছিল যাত্রীদের ভিড়ে ব্য...

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত শ্রমজীবী জীবন, আরো তাপপ্রবাহের সতর্কতা
২০ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত শ্রমজীবী জীবন, আরো তাপপ্রবাহের সতর্কতা

চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাঠফাটা রোদ ও তপ্ত হাওয়ায় ব...

ফুয়েল পাস নিবন্ধন শুরু আরো উনিশ জেলায়
২০ এপ্রিল ২০২৬

ফুয়েল পাস নিবন্ধন শুরু আরো উনিশ জেলায়

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে চালু...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই