ব্যস্ততার চাপে যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব কষে ব্যয় করতে হয়, সেখানে হঠাৎ করেই এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হলো জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিরতির ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য এবং আহতদের কাছে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গ্যালারির ‘মেঘনা হলে’ প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে দেখা করেন।
প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সবার খোঁজ-খবর নেন। কারও সন্তানের কথা শুনে থমকে যান, কারও চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে চান, আবার কারও কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কথায় ছিল সহমর্মিতা, চোখে ছিল গভীর মনোযোগ- যেন রাষ্ট্রপ্রধান নন, একজন পরিবারের সদস্য হয়ে শুনছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সারাদেশ থেকে আসা ৬০ জন জুলাই গণআন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য এ সময় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য, বাকি সবাই জুলাই গণআন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে আহত হন। অনেকেই এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিকতার সঙ্গে একে একে তাদের সবার কথা শোনেন। কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মাথায় হাত বুলিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন।
আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।
এসি/আপ্র/০৬/০৪/২০২৬