ইউরোপজুড়ে চলতি বছরের দাবানল পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় কমিশন। সংস্থাটির আশঙ্কা, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দাবানলের মৌসুম এবার শীতের আগমনের সময়, অর্থাৎ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে চলতি বছর দাবানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানলের তীব্রতা ও বিস্তারের গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এ বছরের দাবানল মৌসুম ইউরোপের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে বিমান, হেলিকপ্টার, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দমকলকর্মী পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ফ্রান্সে সাতটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও চারটি হেলিকপ্টার এবং স্পেনে ছয়টি বিমান ও তিনটি বিশেষায়িত দমকল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলের কাছে জিরোন্দ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন। এই দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ আয়তনের এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।
এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বাতাস ও চরম শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সেখানে আগুন ঘণ্টায় প্রায় ছয় কিলোমিটার বেগে ছড়িয়ে পড়ে, যা অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণক্ষমতার বহু গুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ অবস্থায় ভূমিতে কাজ করা দমকলকর্মীরা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৩০০ মিটার গতিতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন। কিন্তু স্পেনের দাবানল প্রায় ২০ গুণ বেশি গতিতে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে গেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী কয়েক মাসজুড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন দাবানল দেখা দিতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৭/২০২৬