গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে ৪৭ দেশের পূর্ণ সমর্থন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৫ এএম ২০২৬
আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে ৪৭ দেশের পূর্ণ সমর্থন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। দেশের জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি দেশগুলো অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও প্রকাশ করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৯ সালের জুনে আওয়ামী লীগ শাসনামলে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ প্রতিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধি সংস্থাটির সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছিলেন।

এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি শ্রম খাত সংস্কার সংক্রান্ত একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওর গভর্নিং বডিতে দাখিল করে। দাখিল করা এ রোডম্যাপে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে গত পাঁচ বছরে গভর্নিং বডির আটটি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বর্তমান সরকার নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশ করে। এদিন মামলাটির আলোচনায় অংশ নিয়ে সব দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারের সমর্থনে বক্তব্য দেন। সংস্থাটির ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ শ্রম খাত উন্নয়নে নতুন সরকারের সুদৃঢ় আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানায়।

মামলার আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অংশ নেন। এ সময় জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন গভর্নিং বডির সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ ম্যান্ডেটের মূলে রয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার, যেখানে নাগরিক অধিকার, বিশেষত মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাক্‌স্বাধীনতা, পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে আইএলওর ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যাজেন্ডা’ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি অধিবেশনে তুলে ধরা হয়। সরকার এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে আশ্বাস দেন উপদেষ্টা। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেও তিনি জানান। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থাননির্ভর উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করার পাশাপাশি, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করা হয়।

আলোচনায় ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যবিশিষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ, নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন ও উজবেকিস্তানসহ মোট ১৯টি দেশ, মালিকপক্ষ এবং দুটি আঞ্চলিক গ্রুপ শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে। সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ, ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় গ্রুপ এবং মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি, পরিদর্শক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এসি/আপ্র/৩১/০৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাভারে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, গ্রেফতার ৫
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, গ্রেফতার ৫

ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পু...

অপচিকিৎসার অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপচিকিৎসার অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত

অপচিকিৎসা এবং অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কম...

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা...

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন কারাবন্দিরা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন কারাবন্দিরা

কারাগারে বন্দিজীবনে স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে চালু হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে