মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব দেশে পড়েছে, যা দেখা যাচ্ছে ঢাকার ফিলিং স্টেশন ও মুদি দোকানগুলোতে।
জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন: ঢাকার ফিলিং স্টেশনে গত সোমবার (৯ মার্চ) ও মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আজও (১১ মার্চ) ভোর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহন চালকরা তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। কেউ ফজরের নামাজের পর, কেউবা সাহরি খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। গভীর রাতেও তেলের জন্য লাইন ধরেছেন কিছু চালক।
পাম্পের কর্মীরা জানান, সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ীই তেল দেওয়া হচ্ছে। চালকরা অভিযোগ করেছেন, কেউ কেউ তেল অবৈধভাবে মজুদ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। পাল্টা হামলার কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। দেশেও আতঙ্কিত ক্রেতারা বেশি করে তেল কিনছেন, যার ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে।
বিপিসি তেলের সরবরাহ বাড়ালো: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে। আগে ২৫ শতাংশ হ্রাস করা সরবরাহ এখন ১৫ শতাংশ হ্রাসে নামানো হয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জনগণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখতে বিভাগীয় শহরে তেলের বরাদ্দ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায়, গত রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই জনগণকে তেলের সঙ্কট নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ভোজ্যতেল এখনও সংকটে: রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও সীমিত। অধিকাংশ মুদি দোকান ও সুপারশপে সয়াবিন তেল নেই। বিকল্প হিসেবে দেশি ব্র্যান্ডের ক্যানোলা তেল বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
মগদা বাজারে দেখা গেছে, ৫ লিটার বোতল মেলে, কিন্তু এক ও দুই লিটার বোতল পাওয়া কঠিন। দাম স্থিতিশীল থাকলেও দোকানগুলোতে কমিশন কমানো হয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পূর্বের ছাড় এখন নেই।
খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ২০৮–২১০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। রোজার শুরুতে কেজি দরে তেল ১৯৫–২০০ টাকা বিক্রি হতো।
সুপারশপে বিক্রি সীমিত: চেইন সুপারশপগুলোতেও বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম। মানিকনগরের শাখায় এক ক্রেতার জন্য দিনে সর্বোচ্চ এক লিটার তিনটি, দুই লিটার দুইটি বা পাঁচ লিটার একটি বোতল বিক্রির লিমিট রয়েছে।
কর্মীরা জানিয়েছেন, মাঝের তিনদিন সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ ছিল। নতুন সরবরাহ এসেছে, তবে
সানা/আপ্র/১১/৩/২০২৬