সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে জাপানের করা প্রতিরক্ষা চুক্তি বহাল রাখতে চেয়েছে জাপান। তবে স্বার্থের ভিত্তিতে চলতে পারে কিংবা স্বার্থ না হলে পুনরায় বিবেচনা করবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। একই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠকে প্রতিরক্ষা চুক্তি, জাপানে কর্মী পাঠানো নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। জাপানের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এই চুক্তির মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদানকারী প্রকল্পগুলো যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। এই চুক্তিটি জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে হস্তান্তর করা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষের কাছে পরবর্তী যেকোনও হস্তান্তর বা কোনও অতিরিক্ত উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।
বৈঠক শেষে হুমায়ূন কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটা চুক্তি করেছে। সেটা দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো, ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে হলে কন্টিনিউ থাকতে পারে। আর ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে না হলে বিবেচনা করে দেখতে হবে। দেখি— অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জন্য কী রেখে গেছে। সেটা না দেখে তো এখন বলা যাবে না। জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছি। এটা যেন স্মুথলি চলে, সেটা বলেছি। জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশটি সহায়তা করবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। তিনি বলেন, দক্ষ কর্মীর প্রসঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। রাষ্ট্রদূত জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যু, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, মাতারবাড়ি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদি আমিন (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার), পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৪/২/২০২৬