গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ইউনিফর্মধারীদের তুলে নেওয়ার অভিযোগ, চার মাসেও নিখোঁজ মিরাজ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৫ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪০ এএম ২০২৬
ইউনিফর্মধারীদের তুলে নেওয়ার অভিযোগ, চার মাসেও নিখোঁজ মিরাজ
ছবি

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা -ছবি সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোটরসাইকেলচালক মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। গত ১০ এপ্রিল তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি পরিবারের। মিরাজকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। মিরাজের বোন লিজা ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বাগেরহাটের জয়মনি ঠোড়ার কোচঘাট হারবাড়িয়া স্টেশন থেকে দুইজন সাদাপোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা মিজান মাঝি একটি নৌকায় করে জয়মনি এলাকায় আসেন। পরে তাঁরা মিরাজকে মান্নানের জালিবোটে তুলে হারবাড়িয়া স্টেশনে নিয়ে যান।

লিজার অভিযোগ, হারবাড়িয়া স্টেশনে নেওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট সেখানে আসে। এতে আনুমানিক আট থেকে ১০ জন ইউনিফর্ম পরা কোস্ট গার্ড সদস্য ছিলেন। স্পিডবোটটির গায়ে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ লেখা ছিল। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ওই সদস্যরা মিরাজকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

মিরাজের মোটরসাইকেলটি চাবিসহ আলামিন নামের এক দোকানদারের জিম্মায় রাখা ছিল জানিয়ে লিজা বলেন, মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার ১০ থেকে ১১ দিন পর গভীর রাতে রবিন নামের এক কোস্ট গার্ড সদস্য ও মিজান মাঝি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।


পরিবারের দাবি, ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল কোস্ট গার্ড সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা মিরাজ তাঁদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং কোনো অপরাধ পাওয়া না গেলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। মিরাজের স্ত্রী ১১ এপ্রিল দিগরাজ কোস্ট গার্ড ঘাঁটিতে গেলে তাঁকে মিরাজকে অভিযানে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে পরে এক কর্মকর্তা তাঁকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

লিজা আরো বলেন, মিরাজের সন্ধানে ৮ ও ২৬ মে সংবাদ সম্মেলন এবং ৯ জুন মানববন্ধন করা হয়। ১১ জুন হারবাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজ নিতে গেলে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মিরাজের মা, স্ত্রী ও বোনকে মারধর ও আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয় এবং ২৭ দিন জেলে রাখা হয় বলে দাবি করেন লিজা।

মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ফাতেমা বলেন, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করার পর তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মামলা দেওয়া হয়। এরপর ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। কিন্তু এখনো তাঁর স্বামীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিরাজের মা তাসলিমা বেগমের দাবি, ছেলেকে ধরে নেওয়ার সময় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। পরে কোস্ট গার্ডের কার্যালয়ে গিয়ে ছেলেকে দেখাতে অনুরোধ করলেও তাঁকে দেখানো হয়নি। বরং মিরাজকে অভিযানে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে আর তাঁর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক করা হলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠাতে হবে। মিরাজের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তাঁকেও আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান তিনি।

তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কাউকে আটক করার সময় আটককারীকে নিজের পরিচয় প্রকাশ, আটকের কারণ জানানো এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করার বিধান রয়েছে। মিরাজের ক্ষেত্রে এসব করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কোস্ট গার্ড। বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মিরাজ শেখকে কোনো সময় আটক, হেফাজতে গ্রহণ বা গুম করেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম, টহল, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উপস্থিতি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়েছে। অনুসন্ধানে মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিরাজ সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা, মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বনদস্যু চক্রের মুক্তিপণ ও চাঁদার প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে ওই চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধও সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর বাবা আগে একটি বনদস্যু বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/৮/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
১৬ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্...

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি
১৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাবে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন...

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাবে সরকার: মাহ্দী আমিন
১৬ অক্টোবর ২০২৬

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাবে সরকার: মাহ্দী আমিন

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও সেরা তরুণদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে...

ধর্ম ও মতের কারণে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী: প্রেস সচিব
১৬ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম ও মতের কারণে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী: প্রেস সচিব

উদারনৈতিক মনোভাব নিয়ে মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্ম ও মতের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে