মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গের মতো হাতের তালু, কবজি ও আঙুলের পেশিগুলোরও নিয়মিত ব্যায়াম প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, হাতের বিভিন্ন সমস্যায় কিংবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করার কারণে কারও কারও হাতের মুঠো ও আঙুলের চিমটি দেওয়ার শক্তি কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন কাজেও। পানির বোতলের ছিপি খোলা, চাবি ঘোরানো কিংবা কোনো ভারী জিনিস শক্ত করে ধরে রাখার মতো সাধারণ কাজও তখন কঠিন হয়ে ওঠে।
হাতের মুঠো ও চিমটি দেওয়ার শক্তি বাড়াতে নমনীয় চিকিৎসা-ব্যায়ামের পুটি ব্যবহার করে কয়েকটি সহজ কসরত করা যায়। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তিনটি ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো হাতের মুঠো ও চিমটি দেওয়ার শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসা-ব্যায়ামের পুটি এক ধরনের নমনীয় প্লাস্টিক উপাদান, যা বিভিন্ন মাত্রার প্রতিরোধ তৈরি করে। চিকিৎসা-সরঞ্জামের দোকানে সাধারণত এ ধরনের পুটি পাওয়া যায়। ব্যায়াম শুরুর সময় নরম পুটি ব্যবহার করা এবং হাত সহজে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত শক্ত পুটিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যেভাবে করবেন
পুটি দিয়ে মুঠো করার ব্যায়াম
প্রথমে পুটিকে হাতের তালুতে গড়িয়ে ছোট বলের মতো করে নিতে হবে। এরপর সেটি তালুর মধ্যে রেখে পুরো আঙুল দিয়ে চারদিক থেকে ধীরে ধীরে চেপে শক্ত মুঠো তৈরি করতে হবে। কিছুক্ষণ চেপে রাখার পর পুটি ছেড়ে দিতে হবে। এই ব্যায়াম হাতের সামগ্রিক মুঠো করার শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
পুটি দিয়ে চাবির মতো চিমটি
এ ক্ষেত্রে পুটিকে ছোট ও মোটা সিলিন্ডারের মতো করে নিতে হবে। এরপর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর পাশের অংশের মাঝখানে পুটিটি রাখতে হবে—যেভাবে তালায় চাবি ঢোকানোর সময় আঙুলের অবস্থান থাকে। দুই আঙুল দিয়ে পুটিকে আলতোভাবে চেপে প্রতিরোধ অনুভব করার পর ছেড়ে দিতে হবে। এই ব্যায়াম চাবি ঘোরানো বা কোনো জিনিস চিমটি দিয়ে শক্ত করে ধরার মতো কাজে প্রয়োজনীয় শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
তিন আঙুলের চিমটি
পুটিকে আবার ছোট ও মোটা সিলিন্ডারের আকার দিতে হবে। এবার বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী ও মধ্যমার ডগার নরম অংশের মধ্যে পুটিটি রেখে তিন আঙুল দিয়ে একসঙ্গে চেপে ধরতে হবে। কিছুক্ষণ চেপে রাখার পর ছেড়ে দিতে হবে। কলম ধরা বা ছোট ও সূক্ষ্ম কোনো বস্তু ধরে রাখার মতো কাজে এ ধরনের চিমটি দেওয়ার শক্তি প্রয়োজন হয়।
কতবার করবেন
হার্ভার্ড হেলথের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যায়াম প্রতি এক দিন পরপর প্রতি হাতে ১০ বার করে করা যেতে পারে। শুরুতে ব্যায়ামের পর হাতের পেশিতে সামান্য অস্বস্তি বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে তা সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলে যাওয়ার কথা। হাতের দুর্বলতা থাকলে শুধু পুটি দিয়ে ব্যায়ামই নয়, কবজি ও বাহুর পেশি শক্তিশালী করার অন্যান্য কসরতও উপকারী হতে পারে। কারণ হাত ও কবজির নড়াচড়া এবং মুঠো করার কাজে ব্যবহৃত অনেক পেশি আসলে বাহুর নিচের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
সতর্কতা
ব্যায়াম শুরুর সময় সবচেয়ে নরম পুটি ব্যবহার করাই নিরাপদ। কোনো অসুবিধা ছাড়াই ব্যায়াম করতে পারলে ধীরে ধীরে বেশি প্রতিরোধ তৈরি করে এমন পুটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে হাতের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, সাম্প্রতিক আঘাত, লিগামেন্টের গুরুতর ক্ষতি কিংবা হাড় ভাঙার মতো সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় শক্তির ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা শারীরিক পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হার্ভার্ড হেলথও স্পষ্ট করেছে, তাদের প্রকাশিত তথ্য সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
ডিসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬