ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ নয়, ছোট শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকেরা প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে না পারায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই শিশুর শরীরে রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, তা জানা জরুরি।
শিশুর ডায়াবেটিসের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বংশগত কারণের পাশাপাশি শরীরের নিজস্ব কিছু সমস্যার কারণেও অল্প বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে। তাই শুধু চকোলেট, মিষ্টি বা চিনি খাওয়াকেই শিশুর ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ মনে করা ঠিক নয়।
যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন
ঘন ঘন প্রস্রাব: আগের তুলনায় শিশু বারবার প্রস্রাব করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা: স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা বা বারবার তৃষ্ণা পাওয়াও রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: খেলাধুলা বা স্বাভাবিক কাজের পর অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা সবসময় ক্লান্ত দেখালে সতর্ক হওয়া উচিত।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাবারের পরিমাণ বা জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও শিশুর ওজন কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বয়স বাড়ার পর বিছানায় প্রস্রাব: ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিছানায় প্রস্রাব করা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার পর আবার নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
বংশগত কারণের পাশাপাশি শিশুর জীবনযাপনও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে অনেক শিশু আগের তুলনায় কম খেলাধুলা করে এবং দীর্ঘ সময় বসে মুঠোফোন বা টেলিভিশন ব্যবহার করে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়।
এর পাশাপাশি বাইরের খাবার ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁকও শিশুর খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সুষম খাবার ও নিয়মিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
শিশুর সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কসরত এবং সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং খেলাধুলা বা শরীরচর্চায় উৎসাহ দিতে হবে। পাশাপাশি মুঠোফোন ও টেলিভিশন ব্যবহারের সময়ও সীমিত রাখা উচিত।
তবে শিশুর মধ্যে বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া বা বয়স বাড়ার পরও বিছানায় প্রস্রাব করার মতো লক্ষণ দেখা দিলে শুধু জীবনযাত্রা পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন হলে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো জরুরি।
শিশুর ডায়াবেটিস যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা শুরু করা সম্ভব। তাই শিশু চকোলেট বা মিষ্টি খায় কি না, শুধু সেটির দিকে নজর না দিয়ে তার দৈনন্দিন আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
এসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬