নতুন গানের পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশনাতেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। সম্প্রতি ঢাকার ঢাকা ক্লাবে ‘মেগা মিউজিক নাইট উইথ ন্যান্সি’ আয়োজনে গান পরিবেশন করে দর্শক মাতান তিনি। আয়োজনটি দারুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন ন্যান্সি। পরপর দুই দিনের ব্যবধানে দুটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে তিনি নতুন কোনো প্রবণতা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, দেশে কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে।
ন্যান্সি বলেন, “কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়ার রীতি আমাদের আগে থেকেই ছিল। তখন যদি এ সময়ের মতো সবাই প্রতিবাদ করত, তাহলে আমাদের এখন এমন দিন দেখতে হতো না।” নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের সরকারের ১৭ বছরে তাঁর কয়েকটি কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রশাসনিকভাবেও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুন্সিগঞ্জে একটি কনসার্টে তাঁকে মারার জন্য লোকজন এসেছিল বলেও জানান এই শিল্পী।
ন্যান্সির ভাষায়, “এ কারণে হঠাৎ করে কনসার্ট বন্ধ হচ্ছে—আমি বলতে পারি না। কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে হঠাৎ করে সবার অবাক হওয়ার ভান আমাকে সত্যি বিরক্ত করে।” তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা বললেও কনসার্ট বন্ধের পক্ষে নন ন্যান্সি। তাঁর মতে, কোনো শিল্পীর জন্যই কনসার্ট বাতিল হওয়া সুখকর নয়।
কারণ শিল্পীদের আয়ের বড় একটি অংশ আসে মঞ্চ পরিবেশনা থেকে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও শিল্পী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
ন্যান্সি বলেন, “শিল্পীদের আয়ের একটা বড় অংশ কনসার্ট থেকে আসে। কনসার্ট বন্ধ হওয়াকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না। আমি মনে করি বর্তমান সরকার সংস্কৃতিবান্ধব সরকার। যদি প্রশাসন থেকে শুরু করে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে পারি, তাহলে আমাদের আগামীতে এমন দিন দেখতে হবে না। সরকার কখনো একা কিছু করতে পারবে না। সাধারণ মানুষ যদি এগিয়ে না আসে।”
কনসার্ট আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ন্যান্সি। তাঁর মতে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে অযৌক্তিক আপত্তির মুখে পড়ার পরিস্থিতি কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, “একটা দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দেন।
তারা যদি নিজেদের কাজ ঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে কোনো অযৌক্তিক আপত্তির মুখে আমাদের পড়তে হবে না।” সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা নিয়েও কথা বলেন ন্যান্সি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ তুলে ধরে খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় আমার বক্তব্য সঠিকভাবে গণমাধ্যমে আসে না। আমি যা বলি, সেখান থেকে রসালো অংশটুকু কেউ কেউ লেখেন। তারা সংবাদটি সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে ভাইরাল করার আশায় থাকেন।
এ কারণে আমার পুরো কথা জানার সবার সুযোগ হয়ে ওঠে না।” ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাম্প্রতিক কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় দেশের সংগীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে—কোনো অনুষ্ঠানে আপত্তি থাকলে তা আগেই জানানো এবং প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি; শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বন্ধ হলে শিল্পী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবারই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
ডিসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬