উইমেনস এশিয়া কাপে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে এবার প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাইছে না পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যেই এশিয়া কাপের আগে ছেলেদের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ফাতিমা সানার নেতৃত্বাধীন দল।
ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরির জন্য অনুশীলন নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতেই একাডেমির পুরুষ ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলেছে তারা।
এশিয়া কাপের নয় আসরে এখনো শিরোপা জিততে পারেনি পাকিস্তান। দুবার ফাইনালে উঠলেও সর্বশেষবার সেটি ছিল ২০১৬ সালে। গত আসরে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সও পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের।
চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে গত জুনে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হারে দলটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচেও পরাজিত হয় তারা। একমাত্র জয় আসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে সর্বশেষ ১১ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের জয় মাত্র দুটি।
সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় পাকিস্তানের বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে যথেষ্ট মনোযোগের অভাব। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় সমালোচিত হয় দলটি।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্বল ফিল্ডিংও তাদের সমস্যাগুলো সামনে নিয়ে আসে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপের মুখে দলের ছন্দ হারিয়ে ফেলার প্রবণতাও দেখা গেছে।
এশিয়া কাপের প্রস্তুতি পর্বে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে এসব দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছে পাকিস্তান।
সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিখ্যাত আবদুল কাদির ক্রিকেট একাডেমির ছেলেদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে তারা। একাডেমির উঠতি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি বয়সী ক্রিকেটাররাও এসব ম্যাচে অংশ নেন।
ছেলেদের বিপক্ষে খেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের পরীক্ষা করা। এতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলানো, ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ ধরে রাখা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তানের মেয়েরা।
অধিনায়ক ফাতিমা সানা মনে করেন, এ ধরনের প্রস্তুতি এশিয়া কাপের মূল পর্বে দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। তিনি বলেন, “টুর্নামেন্টের জন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা ছেলেদের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছি, যেখানে আমরা চাপের মধ্যে ছিলাম।
এই শিক্ষাগুলো আমাদের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” চাপের পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার ওপরও জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, “চাপ আরও ভালোভাবে সামলানোর কৌশল আমাদের বোঝা দরকার এবং বড় কোনো টুর্নামেন্ট হলেই এই বিষয়টি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো আমাদের সেদিক থেকে সাহায্য করবে এবং পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো হবে।”
ফাতিমা আরও বলেন, কঠিন মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দেরও সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
দুবাইয়ে শুক্রবার শুরু হচ্ছে এবারের নারী এশিয়া কাপ। পাকিস্তান রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, থাইল্যান্ড ও হংকং। ফলে গ্রুপ পর্বেই ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকে।
দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা, সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টিতে হতাশাজনক ফল এবং চাপের মুহূর্তে দুর্বলতা কাটিয়ে এবার এশিয়া কাপে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে ফাতিমা সানার দল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডিসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬