নতুন কোচ জাভি আলোনসোর অধীনে জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে চেলসি। তবে ক্রাভেন কটেজে ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়টি স্বস্তিদায়ক ছিল না। আক্রমণভাগে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিলেও রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের ভুলে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত চাপে থাকতে হয়েছে পশ্চিম লন্ডনের দলটিকে। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩১ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় চেলসি। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা বলে লেভি কলউইলের হেডের পর বল পান কোল পালমার।
ডান দিক থেকে সামনে উঠে আসা হোয়াও পেদ্রোকে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সুযোগ পেয়ে গোলরক্ষক বেরিয়ে আসার আগেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমের দ্রুততম উদ্বোধনী গোলগুলোর একটি হিসেবে নজর কাড়ে। দ্রুত গোলের পর চেলসির আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।
পালমার ও মরগান রজার্স একাধিকবার ফুলহামের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেন। তবে নিজেদের রক্ষণে তখন থেকেই অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল।
বিশেষ করে গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের পারফরম্যান্স ছিল উদ্বেগের। ২৩ মিনিটে জশ কিংয়ের শটে প্রথমে কিছুটা বিপদে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণ সামলাতে পারেননি চেলসির গোলরক্ষক। ফুলহামের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কিংয়ের নেওয়া শট সানচেজের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ম্যাচে সমতা ফেরে। সমতা ফেরার পরও আক্রমণ থেকে সরে যায়নি চেলসি। পালমারের ক্রস থেকে হোয়াও পেদ্রোর ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রোমিও লাভিয়ার প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন ফুলহামের গোলরক্ষক বের্ন্ড লেনো।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে আবার এগিয়ে যায় চেলসি। পালমারের কাছ থেকে বল পেয়ে নতুন সেন্টার-ব্যাক ম্যাক্সঁস লাক্রোয়া দুর্দান্তভাবে ফুলহামের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন। গোলরক্ষক লেনোকে টেনে নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন রজার্সের দিকে।
সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ইংলিশ ফরোয়ার্ড। চেলসির হয়ে অভিষেকেই গোল পেয়ে যান রজার্স। এই গ্রীষ্মে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রজার্সকে দলে আনতে চেলসি বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। অভিষেকেই গোল করে নতুন কোচের অধীনে তাঁর শুরুটা হয়ে ওঠে স্মরণীয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় চেলসি। ৪৯ মিনিটে হোয়াও পেদ্রো ও মরগান রজার্সের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পান পালমার। বক্সের ভেতর ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে লেনোর দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। চেলসি এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। তবে দুই গোলের লিডও চেলসিকে স্বস্তি দেয়নি।
মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান কমিয়ে আনে ফুলহাম। লম্বা বল সামলাতে গিয়ে লেভি কলউইল ভুল করেন। টিমোথি কাস্তানিয়ে শট নিলে সানচেজ সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন অভিষেককারী গনসালো গার্সিয়া।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ফুলহাম। চেলসিকে বারবার রক্ষণে ব্যস্ত রাখে স্বাগতিকরা। সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি আসে ৭৮ মিনিটে। গোলের বাইরে চলে আসা সানচেজকে দেখে অ্যান্টোনি রবিনসন দূর থেকে বল তুলে দেন, কিন্তু তাঁর লব অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
পরে রায়ান সেসেনিয়নের জোরালো প্রচেষ্টাও সামলে নেন সানচেজ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেলসি।
জয় দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আলোনসোর চেলসি অধ্যায়ের শুরুটা ভালো হলেও ম্যাচটি তাঁর সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে। আক্রমণভাগে পালমার, হোয়াও পেদ্রো ও রজার্সের সমন্বয় যেমন আশাবাদী করেছে, তেমনি রক্ষণভাগের ভুল এবং সানচেজের অনিশ্চিত পারফরম্যান্স নতুন করে ভাবাচ্ছে।
আলোনসো নিজেও ম্যাচ শেষে তাঁর আক্রমণভাগের এই ত্রয়ীকে দলের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন। চেলসির নতুন প্রকল্পের শুরুটা তাই তিন পয়েন্টে হলেও সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
বরং প্রথম ম্যাচেই বোঝা গেল, আক্রমণভাগের শক্তির পাশাপাশি রক্ষণ ও গোলরক্ষণের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে না পারলে সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আলোনসোর দলকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে।
ডিসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬