স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা শিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। একই মামলায় রফিকুল ইসলাম ওরফে দুর্জয়কে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার এ তথ্য দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে আটক হন এই দুইজন। পরে তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২২/২৫ জন নেতাকর্মী দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোসহ দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
তারা শেখ হাসিনার ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না, মানবো না’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’- ইত্যাদি স্লোগান দেন এবং স্মৃতিসৌধে অবস্থান করেন।
দেশের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোসহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা স্মৃতিসৌধে একত্রিত হয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার মিষ্টি সুভাষ ও দুর্জয়কে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. শহিদুজ্জামান পাঁচ দিন করে রিমান্ড চান। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার রিমান্ড আবেদন খারিজ ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত দুই আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গেল বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে শেখ হাসিনার। পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির একাধিক মামলায়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলটির অনেক শীর্ষ নেতা। দেশে যারা আছেন, তারাও নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো কর্মসূচিতে সামনে আসতে পারছেন না।
অবশ্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাঝে মাঝে ঢাকাসহ দেশের স্থানে ঝটিকা মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচি থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারও করেছে।
মিষ্টি সুভাষ আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন শেখ হাসিনার ‘জন্মদিন পালন করতে’ গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হেনস্তার শিকার হন তিনি। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের এই নেতা। পরে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। এসব মামলায় দুই দফায় চার মাসের মতো কারাগারে ছিলেন তিনি। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার পক্ষে’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান মিষ্টি সুভাষসহ কয়েক ব্যক্তি। তবে তারা কোনো বাধার মুখে পড়েননি।
এরপর অভিনেত্রী মিষ্টি সুভাষ আবার আলোচনায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি হাতে নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে মগবাজার এলাকায় পদযাত্রা করে। কয়েক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মগবাজার চার রাস্তা মোড় থেকে এফডিসি গেইট হয়ে হাতিরঝিল এলাকা প্রদিক্ষণ করেন।
সানা/আপ্র/২৭/৩/২০২৬