বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক নির্মম সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাসহ একাধিক নৃশংস ঘটনার খবর ইউনিসেফকে গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত করেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যেসব স্থানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা সহিংসতার শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগী সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছর দেশে নারী ও শিশুদের ওপর নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধির প্রবণতা শিশু ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধের পাশাপাশি প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশি ও বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবার বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইউনিসেফ বলেছে, নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযত্নকেন্দ্রে জবাবদিহি আরও বাড়াতে হবে। সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও বিস্তার লাভ করে উল্লেখ করে সংস্থাটি শিশু, নারী, পরিবার ও সমাজের মানুষকে যেকোনো নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রয়োজনে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, এই সেবার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার শিশুরা তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারে।
বিবৃতিতে ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারকে এক ধরনের নতুন নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।
সর্বসাধারণ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসান এবং মানুষের নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
ইউনিসেফের মতে, প্রতিটি শিশুরই সমাজে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পরিবারে এবং গণমাধ্যমে তাদের গল্প বা ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬