গ্রীষ্মকাল হলো ফলের মৌসুম। আমরা প্রায় সবাই ফল খেলেও এর খোসা কিংবা বীজ ফেলে দিই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এমন অনেক ফল আছে যেগুলোর বীজ কিংবা খোসা ফেলে না দিয়ে বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়? বিশেষ করে বিভিন্ন নাস্তা, পানীয় তৈরিতে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফলের কোন উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়ে কী তৈরি করা যেতে পারে-
১. তরমুজের খোসার সবজি
তরমুজের রসালো লাল শাঁস এবং শক্ত সবুজ খোসার মাঝের সাদা অংশটি কিন্তু রান্না করে খাওয়া যায়। সেজন্য আপনাকে বাইরের সবুজ স্তরটি ছাড়িয়ে নিতে হবে, এবার সাদা অংশটি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার অন্যান্য সবজি রান্নার মতোই বিভিন্ন মসলা সহযোগে রান্না করুন। এই তরকারি রুটি, পরোটা কিংবা ভাতের সঙ্গে খেতে পারবেন।
২. তরমুজের বীজ
তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি দিয়ে সহজেই মুচমুচে নাস্তা তৈরি করতে পারবেন। তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর সামান্য ঘি, ব্ল্যাক সল্ট, চাট মসলা এবং ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে ভাজুন। এর স্বাদ বাদামের মতো। একটি জারে রেখে দিন এবং যখন প্রয়োজন মুঠো ভরে খান। এগুলো চাটের টপিং হিসেবেও চমৎকার কাজ করে।
৩. লেবু জাতীয় ফলের খোসা
কমলা এবং লেবুর খোসা সুগন্ধ এবং তীব্র স্বাদে ভরপুর। এগুলো ফেলে না দিয়ে রোদে বা চুলার অল্প আঁচে মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। এই গুঁড়া কেক, চা, ম্যারিনেড এবং ডেজার্টে চমৎকারভাবে কাজ করে। তাহলে এখন থেকে এ ধরনের ফলের খোসা ফেলে না দিয়ে সংরক্ষণ করুন।
৪. লেবুর খোসা দিয়ে ক্যান্ডি
লেবু বা কমলার খোসা দিয়ে সুস্বাদু ক্যান্ডি তৈরি করা যায়। খোসা সেদ্ধ করে চিনির সহযোগে রান্না করুন। খাওয়ার পরে এগুলো চিবিয়ে খেলে তা মুখের ভেতরটা সতেজ রাখে। এটি অনেকটা ঘরে তৈরি ডাইজেস্টিভ ক্যান্ডির মতো কাজ করে। ক্যান্ডিগুলো একটি জারে রেখে দিন এবং খাবারের পর উপভোগ করুন।
৫. ফলের খোসার ভিনেগার তৈরি করুন
আপেল, নাশপাতি, আনারস বা বেরি জাতীয় ফলের খোসা এবং অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ঘরে তৈরি ফ্রুট ভিনেগার বানানো যায়। এর সঙ্গে প্রয়োজন পানি ও চিনি। প্রাকৃতিক চিনি গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে টক-মিষ্টি ভিনেগার তৈরি হয়। যা সালাদ ড্রেসিং, ম্যারিনেড বা ঘরে তৈরি পরিষ্কারক দ্রবণেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. কমলার খোসার চাটনি
কমলার খোসার একটি সুন্দর, মিষ্টি-তিক্ত স্বাদ রয়েছে যা দিয়ে চমৎকার চাটনি তৈরি হয়। খোসার তেতো ভাব কমাতে সেদ্ধ করুন, তারপর গুড়, তেঁতুল, শুকনা এবং ভাজা জিরার সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এর ফলে আঠালো, ঝাল, টক এবং হালকা মিষ্টি চাটনি তৈরি হয়। যা অনেক খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়।
এসি/আপ্র/২৩/০৫/২০২৬