ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাটিকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনটিএর বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরেই দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে বদলি করে পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের সচিব করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরেশ পাল গাঙ্গওয়ার এবং স্কুল শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হয়েছেন টি. কে. অনিল কুমার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এএনআই জানায়, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনটিএকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাড্ডার সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
সিজেপির দাবি, তাদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে দুটি নীতিগতভাবে সরকার মেনে নিয়েছে। তবে তৃতীয় দাবি—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আরো এক দিন সময় চেয়েছে।
বৈঠক শেষে জে. পি. নাড্ডা বলেন, আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শেষে পরবর্তী বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এসি/আপ্র/২৫/০৭/২০২৬