ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই দেশ তিনটিতে বন্যায় কৃষিজমি, অবকাঠামো ও সরকারি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে পুরো সপ্তাহজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। বন্যায় ‘নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ’ হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বুধবার এক বুলেটিনে রাজ্যটির দুর্যোগ মোকাবেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিতে আসামের ১১টি জেলার ছয় লাখ ৫০ হাজরেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যে সরকার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আসাম ও প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ডে ১৮ থেকে ২০ জুলাই তুমুল বৃষ্টিপাত হয়। মূলত এই টানা ভারি বৃষ্টির কারণেই নদনদীর পানি স্ফীত হয়ে আসামে বন্যা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় নদী বহ্মপুত্র আসামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। প্রায় প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে প্রবাহিত বাড়তি পানির কারণে নদীটির দুকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ও পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে গত ৭২ ঘণ্টায় বন্যায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে উভয় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নুরিস্তান প্রদেশের বাসিন্দা মুজিব উর রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, “বন্যার তোড়ে বাড়ি ও হোটেলগুলো ভেসে গেছে। সবকিছু চলে গেছে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা আটকা পড়ে আছেন তাদের উদ্ধারে মেশিনপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।”
বৈশ্বিক নির্গমণের ক্ষেত্রে তাদের দায় স্বল্প হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাদের অন্যতম। উভয় দেশেই বন্যা, খরা, হিমবাহের গলন ও পানি স্বল্পতা লাখ লাখ মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ডিসি/আপ্র/২৩/০৭/২০২৬