ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সহ-আয়োজক কানাডার বিরুদ্ধে বড় বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গাড়িশিল্প, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যে কানাডার কথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক নীতির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ঘোষণার পর দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর প্রভাবে দুই দেশেই পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আগের শুল্কনীতির জবাবে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ এবং চলমান বাণিজ্য বিরোধের প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প ১৯৩০ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের বিশেষ ধারার আওতায় নতুন এই শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) অনুযায়ী এতদিন শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া অধিকাংশ কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে জ্বালানি পণ্য, পটাশ, মাছ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
২০২০ সালে কার্যকর হওয়া ইউএসএমসিএ চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য আলোচনা শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক পুরোপুরি কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ থাকবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতি কানাডার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিরোধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাই তাদের অগ্রাধিকার।
এক বিবৃতিতে কার্নি জানান, কানাডা ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান বাণিজ্য বিরোধের ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। তাই উভয় পক্ষের স্বার্থেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।
সূত্র: এপি, ইউএনবি
এসি/আপ্র/২১/০৭/২০২৬