ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রশমনের লক্ষ্যে পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বুধবার (২৪ জুন) শুরু হওয়া এই সফরটি তার প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর। বিষয়টি জানিয়েছে রয়টার্স।
তিন দিনের উপসাগরীয় সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার গভীর রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে পৌঁছান রুবিও। সফরের পরবর্তী ধাপে তার কুয়েত সফরের কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ইরানকে বড় পরিসরের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই অর্থ ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে।
আবুধাবিতে পৌঁছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, চুক্তি নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ অবশ্যই আলোচনায় আসবে।
তিনি আরো জানান, সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ না থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে।
সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় রুবিও তুলনামূলকভাবে আড়ালে থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় মার্কিন পক্ষের নেতৃত্ব দেন।
রুবিওর এই সফরকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে চুক্তির পক্ষে মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করা, অন্যদিকে তাদের সন্দেহ ও উদ্বেগ দূর করা-এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাকে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ হলো, ইরান এই অর্থ ব্যবহার করে তার ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে। এছাড়া চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা না থাকায় এই উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশে ইরান-সমর্থিত হামলার ঘটনাও ঘটেছিল, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
রুবিও তার সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি-সমৃদ্ধ দেশগুলো পরিদর্শন করবেন। যুদ্ধের সময় এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাতে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইরাকের ভেতরে গোপন সেল গঠন করে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা শঙ্কা আরো বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে রুবিওর এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মিত্রদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬