তীব্র রাজনৈতিক চাপ, জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং দলীয় অসন্তোষের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্টারমার জানান, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজা তৃতীয় চার্লসকে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, দলের নতুন নেতৃত্বের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তাঁর ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করবেন এবং উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর দল এখন প্রশ্ন করছে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। পার্লামেন্টারি দলের কাছ থেকে পাওয়া উত্তর তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।
স্টারমারের ভাষায়, দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করেই তিনি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বক্তব্যের শেষদিকে তাঁকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, স্টারমার লেবার পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশের মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এতে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্টের শরৎকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টি নতুন নেতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দলটির নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন।
গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। গত শুক্রবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম একটি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ফিরে আসার পর সেই চাপ আরো বেড়ে যায়।
বার্নহামের জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দলটির অনেকের বিশ্বাস, ক্রমাগত জনসমর্থন হারাতে থাকা লেবার পার্টিকে পুনরুজ্জীবিত করার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, স্টারমারের পদত্যাগের ফলে বার্নহামের নেতৃত্বে আসার পথ আরো সুগম হলো।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় এনে দিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টারমার। তবে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর পদত্যাগ সেই প্রতিশ্রুতিকে অসম্পূর্ণ রেখেই শেষ হতে যাচ্ছে।
স্টারমারের পদত্যাগ কার্যকর হলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
সানা/আপ্র/২২/৬/২০২৬